Published : 02 May 2026, 08:17 PM
মেহেরপুরে চেক জালিয়াতির এক মামলায় সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদ সরফরাজ হোসেন মৃদুলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছে আদালত।
তবে মামলার বাদী দেবাশীষ কুমার বাগচি অভিযোগ করেছেন, মেহেরপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. ওয়াহিদুজ্জামান প্রায় আড়াই মাস আগে এ আদেশ দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, আদালতের ক্রোক আদেশ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য এসি ল্যান্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে এবং তা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসকের বদলির কারণে আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন সম্পত্তি ক্রোক করে নিলামে তোলার মাধ্যমে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিয়েছে। নতুন জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর আদেশ বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছেন তিনি।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, “ক্রোক আদেশের কপি পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
বাদী দেবাশীষ কুমার বাগচি বলেন, ২০২৪ সালে তিনি প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার (অপরিশোধিত) হওয়ার ঘটনায় মামলা করেন। তার অভিযোগ, ব্যবসায়িক অংশীদার মৃদুল তাকে ব্যবসা থেকে সরিয়ে দেন এবং পরে মূলধন ও লাভসহ পাঁচ কোটি টাকা দাবি করলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে জানান। তখন মন্ত্রী দুই কোটি টাকা নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে এক কোটি ৮০ লাখ টাকার রূপালী ব্যাংকের একটি চেক দেন মৃদুল। কিন্তু সেই চেক জমা দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হিসাবে কোনো টাকা নেই এবং হিসাবটি আগেই স্থগিত হয়ে আছে।
টাকা না পাওয়ায় তিনি মেহেরপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে চেক জালিয়াতি (এনআই অ্যাক্ট ধারায়) মামলা করেন। ওই মামলায় ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত শহীদ সরফরাজ হোসেন মৃদুলকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং চেকের দ্বিগুণ অর্থ জরিমানা করে।
রায়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামি আপিল না করায়, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি বাদী জরিমানার অর্থ আদায়ের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত ৯ ফেব্রুয়ারি আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য মেহেরপুর সদর থানার ওসিকে নির্দেশনা দেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আসামির মালিকানাধীন প্রায় তিন কোটি ৬০ লাখ টাকার সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গৃহস্থালির আসবাবপত্রসহ অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৩ দশমিক ৩৬ একর জমিসহ স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় তিন কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
জরিমানার অর্থ আদায়ের জন্য এ ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
চেক জালিয়াতি: সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রীর ভাইয়ের এক বছরের জেল