Published : 12 Aug 2026, 04:45 PM
তীব্র গরমের মধ্যে রংপুরে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। দিনে-রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগর ও গ্রামের মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।
ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও তৈরি হচ্ছে ভোগান্তি। বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দোকানপাট, কারখানার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় পর ফিরছে। আবার বিদ্যুৎ আসার পর কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই ফের চলে যাচ্ছে।
রংপুর মহানগীরর বাইরে বিভিন্ন উপজেলায় পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে গঙ্গাচড়ায় স্থানীয়রা প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন।
রংপুর নগরীর কাছারিবাজার এলাকার আশা স্টুডিওর মালিক বুধবার বলেন, সারাদিনে কতবার কারেন্ট যায় তার কোনো হিসাব নেই। কখনও একঘণ্টা পর, কখনো আধাঘণ্টা পর বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার গেলে কখন ফিরবে তারও কোনো ঠিক ঠিকানা নেই।
“বিদ্যুতের যাওয়া-আসার কারণে আমাদের কম্পিউটার-প্রিন্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাই ব্যবসা-বাণিজ্য একরকম বন্ধ হয়ে আছে।”
ধাপ এলাকার বাসিন্দা কোহিনূর আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠে পড়ছে, কান্নাকাটি করছে। বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেও অনেক সময় সমাধান পাওয়া যায় না।”
একই এলাকার হরমোন কেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের মালিক হাবিব মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় ল্যাবের কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। জেনারেটর বা বিকল্প ব্যবস্থা করার খরচও আমাদের জন্য অনেক বেশি।”
নগরীর জুম্মা এলাকার একরামুল হক বলেন, “বিদ্যুৎ হয়েছে হোমিও চিকিৎসার মত-ঘণ্টায় তিন ফোঁটা দেয়। বিদ্যুৎ যাওয়ার কথা বলতে পারি আসার কথা বলতে পারি না। আমরা অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি।”
নেসকোর রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সার্কেল-১) মোসাদ্দেক কবির বলেন, “আমাদের চাহিদা ৮৯ মেগাওয়াট, কিন্তু পাচ্ছি ৫২ মেগাওয়াটের মতো। আমাদের কিছু করার নাই।”
তবে কেন বিদ্যুতের এমন ঘাটতি বা করে ঘাটতি কমতে পারে সেসব বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জিএম মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “রংপুরে আমাদের গ্রাহকদের জন্য দৈনিক ১০৮-১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও তা আমরা পাচ্ছি না। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ লোডেশেডিং করতে হচ্ছে। ”
এদিকে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রংপুরে ক্ষোভ ও প্রতিবাদও দেখা গেছে। ৬ আগস্ট গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে রংপুরে বিদ্যুৎ বিভাগকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে এনে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।