Published : 29 Mar 2026, 04:33 PM
সারাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট জনজীবনকে স্থবির করে দিচ্ছে। বেশিরভাগ পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী তেল মিলছে না। ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিশেষ করে বাইক চালকরা এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না।
রোববার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার ‘চৌরঙ্গী ফিংল স্টেশনে’ কথা হয় মিজান নামে এক মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে। যাত্রা পথে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর তেল না পেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতে পড়ে হয়েছে তাকে।
মিজান বলেন, “দেশে তো তেল আসতেছে। এমন তো না যে তেল নাই। সরকার বলতেছে, পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে। কিন্তু আমরা তো রোডে বের হলে তেল পাচ্ছি না। গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হইলেই ঠেলে ঠেলে যেতে হয়।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বেশিরভাগ তেলের পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ। যেগুলোতে মিলছে সেগুলোতে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি হচ্ছে। যা অপর্যাপ্ত বলছেন, গাড়ি চালকরা।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল না পাওয়া গেলেও খুচরা বাজারে ‘অতিরিক্ত দামে’ তেল বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ চালকদের।
কাঁচপুর থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে মুন্সীগঞ্জে বোনের শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন বৃদ্ধ বাবা। পথে তেল ফুরিয়ে গেলে মোটরসাইকেল ঠেলতে ঠেলতে চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনে ঢোকেন তারা। কিন্তু সেখানে তখন ‘তেল নেই' সাইনবোর্ড সাঁটানো।
রোদের মধ্যে মোটরসাইকেলটি ঠেলে আনতে গিয়ে ক্লান্ত বাবা-ছেলে তখন পাশে একটি গাছের তলায় বসে পড়েন।
দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে মুস্তাফিজুর বলেন, “তেল শেষ হয়ে যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে এখানে আসলাম। কিন্তু এখানে এসে শুনি তেল নেই। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।”
চৌরঙ্গী ফিংল স্টেশনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে তাদের স্টেশনে কোনো তেল নেই। ডিপোতে একাধিকবার গাড়ি পাঠিয়েও তেলের মজুদ করতে পারেননি।
রোববার সকালেও একটি গাড়ি ডিপোতে পাঠানো হয়েছে, যা দুপুর দুইটা পর্যন্ত ফেরেনি। ডিপো থেকে তেল পাওয়া গেলে স্টেশনে তা বিক্রি করা হবে বলেও জানান এ ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা।
তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় অলস সময় পার করতে দেখা গেছে চৌরঙ্গী ফিংল স্টেশনের কর্মীদেরও। কেউ পত্রিকা পড়েছিলেন, বাকিরা একে-অপরের সঙ্গে খোশ গল্পে ব্যস্ত ছিলেন।
দশ মিনিট পর্যবেক্ষণে এ ফিলিং স্টেশনে সাতটি মোটরসাইকেল তেল নিতে এলেও সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিরক্তি নিয়ে ফিরে গেছেন সবাই।
তেল সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলের মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান বলেন, “তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এখন সপ্তাহে সাত দিনই ডিপো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। আমাদেরকে যেই পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে সেইটাই দিচ্ছি।”