Published : 17 Jun 2026, 08:41 PM
দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বাজেটে কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “স্বল্প খরচে নিজ এলাকার কাছেই দরিদ্র রোগীরা যাতে চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন, এজন্য দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।”
বুধবার বিকালে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
চিকিৎসক সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “১৭ বছরে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি, এমনকি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও ছিল না। ফলে স্বাস্থ্যখাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
“আমরা বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছি। পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ১৭ বছরের সমস্যাগুলো একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
এ সময় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভিন, সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ, সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ হান্নানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
এদিন সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, “হাসপাতাল পরিদর্শনকালে কিছু চিকিৎসকের অনুপস্থিতিসহ ছোটোখাটো কিছু ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই শোচনীয়। এগুলো ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম ও ফল স্থগিতের বিষয়ে জানতে চাইলে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের অনেক জেলায় অনিয়ম হয়েছে। সেগুলো বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
আগামী তিন মাসের মধ্যে ৫০০ শয্যার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু ও যন্ত্রপাতি সচল করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ সময় স্বাস্থ্য খাতে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি আর অর্থ লুটপাটের কারণে এই সেবা খাত ভেঙে পড়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলা-স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে নতুন হাসপাতাল স্থাপন, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও লোকবল নিয়োগ করে স্বাস্থ্য খাতে গতি আনা হবে।”
এ সময় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন, কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মান্নান এবং সিভিল সার্জন এস এম কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।