Published : 22 Jun 2026, 02:36 PM
মিশরে উত্তর উপকূলে ছুটি কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মোস্তাফা ‘জিকো’ মোহামেদ। অপ্রত্যাশিতভাবে ডাক পেয়ে পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড খেলছেন বিশ্বকাপে। বিশ্ব মঞ্চে মিশরের প্রথম জয়ে রেখেছেন অবদান। তবে এতেই ভেসে যাচ্ছেন না তিনি। মনে করছেন, এই আসরে তাদের অনেক দূর যাওয়া সম্ভব।
বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে সোমবার নিউ জিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারায় মিশর। ১৯৩৪ আসরে প্রথমবার খেলা আফ্রিকার দেশটি এই জয়ে প্রায় শতাব্দী প্রাচীন অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারল।
এতে বড় ভূমিকা রাখা জিকো বললেন, এই বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন ভাবেননি তিনি।
“আমি জাতীয় দল থেকে অনেক দূরে ছিলাম। সত্যি বলতে, আমি ডাক পাব আশা করিনি। কোচ হোসাম হাসান আমাকে উত্তর উপকূল থেকে নিয়ে এসেছেন। আমি ছুটিতে যাওয়ার পথেই ছিলাম আর হঠাৎ নিজেকে আমি বিশ্বকাপে দেখলাম।”
মিশরের ফুটবলারদের লম্বা সময়ের ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক তারকাদের নাম যোগ করা। ব্রাজিলিয়ান গ্রেট জিকোর নাম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড টুর্নামেন্টের আগে মিশর দলে ছিলেন অনিয়মিত, তিনিই এখন বিশ্বকাপে দলের সেরা পারফরমারদের একজন।
যে কোনো উইংয়ে খেলতে পারেন জিকো, সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবেও খেলতে পারেন। কোচের আস্থার প্রতিদান তিনি দিয়ে যাচ্ছেন নজরকাড়া পারফরম্যান্সে।
বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচে রাশিয়া ও ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করেন জিকো। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে তিনিই সমতায় ফেরান। পরে মোহামেদ সালাহর গোলে রাখেন অবদান।
এই জয়ে প্রথমবারের মতো মিশরের সামনে নক আউট পর্বে যাওয়ার হাতছানি। এই সময়ে উচ্ছ্বাসে ভেসে না গিয়ে পা মাটিতে রাখতে চান জিকো।
“আমরা এখনও কোনো কিছু অর্জন করিনি। আশাকরি, আমরা আরও দূরে যেতে পারব। আমরা আফ্রিকার সবচেয়ে শক্তিশালী দল। এই টুর্নামেন্টে যত দূর যাওয়া সম্ভব তত দূর আমরা কেন যাব না?”
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে শীর্ষে উঠে এসেছে মিশর। ২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ইরান। সমান পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেলজিয়াম। আর ১ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে নিউ জিল্যান্ড।
আগামী শনিবার সিয়াটলে ইরানের মুখোমুখি হবে মিশর। একই সময়ে ভ্যানকুভারে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড।