মানিকগঞ্জে ‘অবৈধ বালু ব্যবসায়ীর হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত’

ওই সাংবাদিক এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Feb 2024, 05:10 PM
Updated : 14 Feb 2024, 05:10 PM

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ীর হাতে এক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার আশাপুর সড়কঘাটা এলাকার কালিগঙ্গা নদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে ঘিওর থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস জানান। 

শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দাবি করে ভোরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি সুরেশ চন্দ্র রায় বলেন, “উপজেলার সিংজুরি ইউনিয়নের আশাপুর সড়কঘাটা ও মির্জাপুর এলাকার কালিগঙ্গা নদীতে রতন মেম্বার ও সানোয়ার পীরসাবের দুটো অবৈধ ড্রেজার দীর্ঘদিন ধরে চলার খবরে সেখানে যাই।” 

তিনি জানান, চলমান ড্রেজারের ছবি, ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করেন ফিরছিলেন।

এ সময় ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ড্রেজার ব্যবসায়ী রতন মিয়া ওই সাংবাদিকের পথরোধ করে মোবাইলে ধারণ করা ড্রেজারের ছবি, ভিডিও ও তথ্য মুছে ফেলার শর্তে ২০ হাজার টাকা দিতে চান।

কিন্তু সুরেশ ইউপি সদস্যের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তখন রতন মিয়া তার ভাই আলামিনকে সাংবাদিকের হাত থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে নিতে বলেন। 

কিন্তু সুরেশ তার মোবাইল দিতে না চাইলে রতন, তার ভাই আলামিন ও ড্রেজারের শ্রমিক শাহ আলম তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে থাকেন। 

তখন তিনি লাঞ্ছনাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে এবং সংগ্রহ করা তথ্য রক্ষা করতে পাশের তামাক ক্ষেতের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ দিকে দৌড় দেন।  

সুরেশ চন্দ্রের ভাষ্য, এক পর্যায়ে হাতের মোবাইল ফোনটি তিনি তামাক ক্ষেতে ছুড়ে ফেলেন এবং চিৎকার করতে থাকেন। তার চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এলে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা চলে যান। 

পরে তিনি স্থানীয় পেঁচারকান্দা বাজারে এসে তার কাছে থাকা অন্য একটি ফোনের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত ঘিওর থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাসকে জানান। 

থানা থেকে ওসির পাঠানো পুলিশের সহায়তায় পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তামাক ক্ষেত থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করেন বলে দাবি সাংবাদিক সুরেশের। 

পরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন এবং থানায় এসে সাধারণ ডায়েরি করেন। 

সিংজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান মিঠু জানান, রতন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এটি না করার জন্য তিনি অনেকবার রতন মিয়াকে নিষেধ করেছেন, কিন্তু রতন শোনেননি।   

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য রতন দাবি করেন, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে চাওয়া বা সাংবাদিককে নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। 

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে বুধবার ঘিওর থানা ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, “একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে যদি সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হন, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং শতভাগ অন্যায়।” 

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার জানান, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।