Published : 16 Apr 2026, 06:25 PM
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূর হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহতের স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাড়িভাদেরা এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মদন থানার ওসি হাসনাত জামান।
আহত মারুফা আক্তার (২৭) মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স পদে কর্মরত আছেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আটক আরিফুল ইসলাম (৩৫) টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করেন।
ওসি হাসনাত জামান বলেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে প্রায় ১০ বছর আগে নেত্রকোণা সদর উপজেলার মদনপুর এলাকার মারুফাকে বিয়ে করেন আরিফুল। তাদের সাত বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।
ছয় মাস আগে মারুফা মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসাবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে মদন পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন তারা। কয়েক মাস ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।
ওসি বলেন, “এদিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের এক পর্যায়ে মারুফার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন আরিফুল। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
পুলিশের হাতে আটকের আগে আরিফুল ইসলাম বলেন, “কলেজ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত তাকে (মারুফা) লেখাপড়া করিয়েছি। কিন্তু দিন দিন আমার ওপর মারুফার নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই যাচ্ছে। তার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আঘাত করেছি।”
মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূরুল হুদা খান বলেন, মারুফার অবস্থা সংকটাপন্ন। তার স্বামী আরিফুলকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি হাসনাত জামান।