Published : 01 Jun 2025, 04:04 PM
যশোরের সেই এইডস আক্রান্ত নারী ছেলে সন্তানের মা হয়েছেন।
রোববার সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করে সফলতার সঙ্গে রোববার বেলা ১২টার দিকে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করেছেন চিকিৎসকরা। এখনও পর্যন্ত মা ও নবজাতক সুস্থ আছেন।
এছাড়া নিরাপত্তার জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে হাসপাতালের গাইনি রোগীদের জন্য নির্ধারিত অস্ত্রোপচার কক্ষটিও দুই দিন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়াত বলেন, দুই মাসের বেশি সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকরা এইডস আক্রান্ত ওই নারীর অস্ত্রোপচার করেছেন।
সকাল ১০টায় এক জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি চিকিৎসক দল অস্ত্রোপচারটি শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ওই প্রসূতি এক জন ছেলে সন্তান প্রসব করেছেন।
সন্তানের শরীরে মায়ের রোগ সংক্রমিত হয়েছে কিনা তা জানতে পরীক্ষা করতে কয়েক দিন সময় লাগবে উল্লেখ করে শাফায়াত বলেন, “মায়ের থেকে সন্তানের এ ভাইরাস সংক্রমণের (ভার্টিকাল ট্রান্সমিশন) সম্ভাবনা থাকে। তবে এ সংক্রমণরোধের চিকিৎসা রয়েছে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে মাকে সেই প্রতিষেধক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
“এভাবে চিকিৎসায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৫ বছর আগে এইডস আক্রান্ত যে নারীর অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল তার সন্তান এই ভাইরাসমুক্ত ছিল। আজও (রোববার) যাকে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে তাকেও সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ওষুধগুলো হাসপাতালের এআরটি সেন্টার থেকে সরকারিভাবে সরবরাহ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “চিকিৎসার পরও মায়ের কাছ থেকে সন্তানের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এখন পরীক্ষার পর বোঝা যাবে নবজাতক সংক্রমিত হয়েছে কিনা।”
হাসপাতালের এ তত্ত্বাবধায়ক বলেন, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এইচআইভি আক্রান্ত এইডস রোগীদের সরকারিভাবে চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবা প্রদানের জন্য একটি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার চালু রয়েছে।
সেখানে বেশ কিছু দিন ধরেই এইচআইভি আক্রান্ত রোগী পাচ্ছেন চিকিৎসকরা। চলতি বছরেই সেখানে নতুন করে সাতজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।
ডা. শাফায়াত বলেন, যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৩৭৭টি শয্যা রয়েছে। এর বিপরীতে প্রতিদিন প্রতি শয্যায় তিন জন করে রোগী চিকিৎসা নেন। বর্হিবিভাগে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার রোগী আসে।
“যশোরের আটটি উপজেলাসহ আশেপাশের জেলার বিভিন্ন উপজেলার রোগীরাও এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। রোববারের সফল অস্ত্রোপচারের পর হয়তো আরও অনেক রোগী এ হাসপাতালে এ ধরনের চিকিৎসার জন্য আসবেন।
“এ অবস্থায় আশেপাশের জেলাগুলোতেও অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার স্থাপন প্রয়োজন এবং এইডস আক্রান্ত রোগীর জন্য আলাদা অস্ত্রোপচার ব্যবস্থা রাখা দরকার।”
এ জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাযথ স্থানে কথা বলবে বলেও জানান তিনি।
পাঁচ বছর আগে যশোরের এ হাসপাতালে আরও এক জন এইডস আক্রান্ত নারীর সন্তান প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল সফলতার সঙ্গে।
সে সময়েও যথেষ্ট সর্তকতা অবলম্বন করা হয়েছিল বলে জানান যশোর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের আবাসিক সার্জন নিলুফার ইয়াসমিন এমিলি।
পুরানো খবর