সাগরে মাছ ধরার সময় নৌকাসহ ৯ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর
আরাকান আর্মির সদস্যরা সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণ পূর্ব সাগর থেকে তাদের ধরে নিয়ে গেছে বলে দাবি বোট মালিক সমবায় সমিতির।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সাগরে মাছ ধরার সময় দুটি নৌকাসহ বাংলাদেশি নয় জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার সকালে ৯টার দিকে সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগর থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি শাহপরীর দ্বীপ বোট মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল গফুর।
মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য ভিত্তিক একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেকে ছবি প্রকাশ করেছে।
নৌকা দুটি মালিক হলেন- শাহপরীর দ্বীপ মাঝের পাড়ার ইউসুফ জালাল এবং লালু ফকির।
ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন- মো. আনোয়ার (৩০), মো. ইব্রাহিম (১৯), মনজুর আলম (৩৫), ওমর ফারুক (২০), কবির আহমেদ (৫৫), জাফর আলম (২০), মো. জসিম (১৮), মোহাম্মদ রাশেল (৩০) এবং মো. আব্দুল্লাহ (৩০)। তারা শাহপরীর দ্বীপ মাঝের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
আবদুল গফুর বলেন, আরাকান আর্মির কারণে নাফনদী ও সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া অসম্ভব হয়েছে পড়েছে। সাগর থেকে প্রায় সময় ট্রলারসহ জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে তারা। এভাবে চলতে থাকলে জেলে ও নৌকা মালিকদের মাঝে দুর্দিন নেমে আসবে। এমন ঘটনা বন্ধে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, তাদের ঘাটের ইঞ্জিন চালিত দুটি নৌকা সাগরে মাছ শিকারে যায়। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিড বোটে এসে ধাওয়া করে নয় জেলেকে ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর নৌকার মালিক ও জেলেরা আতঙ্কের মধ্য রয়েছেন।
মিয়ানমার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আরকান বে নিউজ’ আটক জেলেদের নৌকাসহ ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে আরাকান আর্মি দাবি করেছে, অবৈধভাবে আরাকানের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরার অভিযোগে নয় জেলেকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ট্রলার মালিক ও বিজিবির দেওয়া তথ্য মতে, গত ১১ মাসে (গত বছর ডিসেম্বর থেকে) আরাকান আর্মি নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ৩২৮ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
বিজিবির চেষ্টায় কয়েক দফায় ১৮৯ জেলেসহ ২৭টি ট্রলার ফেরত আনা সম্ভব হলেও আরও ২৬টি ট্রলার ও ১৮২ জন জেলে রাখাইন রাজ্যের কারাগারে বন্দি আছেন।
