Published : 14 Jun 2026, 09:55 PM
পাবনার আতাইকুলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন চেষ্টার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। একপর্যায়ে সন্দেহভাজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
রোববার আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটি শেষে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী বাড়ি ফিরছিল। তখন ব্যবসায়ী আবুল কাশেম তার মুদি দোকানে ডেকে নিয়ে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। তখন তার মা আতাইকুলা থানায় আবুল কাশেমকে আসামি করে মামলা করেন।
রোববার ঘটনাটি বিদ্যালয়ে জানজানি হলে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে সহপাঠী ও শিক্ষকরা। তারা স্থানীয়দের নিয়ে আড়িয়াডাঙ্গী বাজারে মানববন্ধন করে।
মানববন্ধন চলাকালে বিক্ষুব্ধ লোকজন সন্দেহভাজন আবুল কাশেমের মুদি দোকান এবং পাশের একটি চায়ের দোকানে ভাঙচুর চালায়। এরপর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে লোকজন কাশেমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় কাশেমের কয়েকজন স্বজন ও প্রতিবেশীর বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়।
খবর পেয়ে আতাইকুলা থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানববন্ধন করেছে। আমরা সবাই এই ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
আতাইকুলা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, সন্দেহভাজন পলাতক, তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
পাশাপাশি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি জানান।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িসহ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।