Published : 18 Mar 2026, 06:26 PM
ঈদকে ঘিরে এক সপ্তাহের টানা ছুটিতে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে রিসোর্ট-কটেজে আগাম বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে।
ইতোমধ্যে ২২ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সাজেকের প্রায় সব রিসোর্ট-কটেজ শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাজেকে ১১১টি রিসোর্ট-কটেজ রয়েছে। ঈদের টানা ছুটি সামনে রেখে পাঁচ দিন আগেই এসব রিসোর্টে আগাম বুকিং শুরু হয়, যা এখন পূর্ণ হয়ে গেছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেকে সড়কপথে খাগড়াছড়ি জেলা হয়ে যেতে হয়। প্রতি বছর এখানে লাখো পর্যটক ভ্রমণে যান।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুর্পণ দেব বর্মণ বলেন, “আমাদের বুকিং শুরু হয়েছে পাঁচ দিন আগে থেকে। সাজেকে ২২ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ রিসোর্ট কটেজে রুম বুকিং হয়েছে গেছে।
“ওই সময় কেউ রুম চাইলেও দিতে পারবো না। কোথাও খালি নেই। এবার ঈদে ভালো পর্যটকের সমাগম হবে বলে আশা করছি।”
এদিকে রাঙামাটি শহরের আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও পর্যটক বরণে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট-কটেজগুলোর বেশিরভাগই প্রায় শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে।
স্থানীয় হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট-কটেজ মালিকরা পর্যটনদের আগমনকে স্বাগত জানাতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
রাঙামাটি শহরের পর্যটনকেন্দ্রগুলো মধ্যে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ঝুলন্ত সেতু, রাঙামাটি জেলা পুলিশের পরিচালিত পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো, আরণ্যক, সড়ক বিভাগের লেকভিউ গার্ডেন, আসামবস্তি-কাপ্তাই সংযোগ সড়ক, বার্গী লেকভ্যালি, রাঙাদ্বীপ রিসোর্ট, নীলাঞ্জন বোট ক্লাব রয়েছে।
রাঙামাটি রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও বার্গী লেকভ্যালির স্বত্ত্বাধিকারী সুমেত চাকমা বলেন, “আমাদের ভ্যালিতে ১৮-২৯ মার্চ পর্যন্ত কোনো রিসোর্ট খালি নেই; সব বুকিং হয়ে গেছে। আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত ১৩টি রিসোর্ট রয়েছে, সেগুলোতেও ২২-২৮ মার্চ পর্যন্ত সব বুকিং আছে।

“যেহেতু ছুটির দিন বেশি এবার, সে কারণে পর্যটকরাও লম্বা সময় পেয়ে পাহাড়মুখী হচ্ছেন।”
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলছিলেন, “আমাদের মোট ৮৭টি রুম রয়েছে, যেখানে ১৭০ জন থাকতে পারবেন। ২২ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের মানসম্মত সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত।”
“বিশেষ করে পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু রঙ করা হয়েছে। এবার ঈদকেন্দ্রিক ছুটি বেশি। আবার নিরাপত্তা পরিবেশ ও আবহাওয়া; সব দিক অনুকূলে রয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় এবছর রাঙামাটিতে রেকর্ড পর্যটক সমাগম হতে পারে বলে মনে করছি।”
ট্যুরিস্ট পুলিশ রাঙামাটি জোনের ইন্সপেক্টর মো. তারিকুল আলম জুয়েল বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটতে পারে এ বছর। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটক সেবা ও নিরাপত্তায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
“আমাদের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এছাড়া আমাদের টহল টিমের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যটক স্পট ও নৌ-ঘাটে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।”