Published : 15 Sep 2025, 04:54 PM
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ মাসের এক মেয়ে শিশুকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মাকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার ভোরে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তারাগঞ্জ থানার ওসি এম এ ফারুক।
নিহত শিশু ওই গ্রামের বাবু লাল ও তুলসী রানী দম্পতির দ্বিতীয় মেয়ে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, তুলসী রানী বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ঘটনার দিন সকালে কান্নাকাটি করায় দাদি পাতানী রানী শিশুটিকে দুধ খাওয়ানোর জন্য মা তুলসী রানীর হাতে তুলে দেন।
কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে ঘরে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে শিশুটির রক্তাক্ত মৃতদেহ বাবু লালের হাতে তুলে দেন তুলসী রানী।
শিশুটির বাবা হোটেল শ্রমিক বাবু লাল বলেন, “কোনো কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। বেশ কিছুদিন ধরে আমার বউ অসুস্থ। যার কারণে বাচ্চাটা আমার মায়ের কাছে থাকত। সকালে দুধ খাওয়ার জন্য কান্না করছিল বাচ্চাটি।
“এজন্য মা বাচ্চাকে তুলসির কাছে দেন। ঘরে নিয়ে যাওয়ার পর বাচ্চার কান্না থেমে যায়। কিছুক্ষণ পর বউ গলা কাটা রক্তাক্ত বাচ্চা আমার হাতে তুলে দেয়। আমি হতভম্ব হয়ে যাই। মেয়েটার কান্না থামল কিন্তু এভাবে থামবে কোনোদিন ভাবিনি।”
শিশুটির দাদি পাতানী রানী বলেন, “বউমার মাথার সমস্যার কারণে ৫ থেকে ৬ দিন ধরে নাতনি আমার কাছেই থাকত। সকালে সে কান্না করছিল, তাই বউকে দুধ খাওয়াতে দেই। কিছুক্ষণ পর দেখি আমার ছেলে হাতে গলা কাটা বাচ্চা নিয়ে দাঁড়িয়ে কান্না করছে। বউ শুধু চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।”
ওসি ফারুক বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।”
এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন; তারপরও ঘটনাটি খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন ওসি।