Published : 16 Apr 2023, 06:21 PM
রাঙামাটিতে সাংগ্রাই মারমা জনগোষ্ঠীর প্রধান অনুষ্ঠান জলোৎসবের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈসাবি উৎসব শেষ হয়েছে।
একে অপরের গায়ে পানি নিক্ষেপের মাধ্যমে পুরোনো বছরের সব জীর্ণতা-গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এই রীতিকে সাংগ্রাই জলোৎসব বলা হয়।
রোববার সকালে মারমা সংস্কৃতি সংস্থার (মাসস) এই জলোৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার।
উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর আবু তৈহিদ।
আলোচনা সভা শেষে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মং বাজিয়ে জল উৎসব উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
এ সময় তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিঁটিয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।
মারমা সংস্কৃতি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের করা হয় জানিয়ে আয়োজকরা জানান, পাহাড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ পুরোনা বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের মাধ্যমে তাদের সামাজিক উৎসব বৈসাবি পালন করেন।
প্রত্যেকে জনগোষ্ঠীর আলাদা আলাদা নামে উদযাপিত এই অনুষ্ঠানকে এক্ষেত্রে বৈসাবি বলে ডাকা হয়। এর মাধ্যমে সব জনগোষ্ঠীর ঐক্যের প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, “অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের মানুষও উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারছেন।”
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) সভাপতি অংসুইপ্রু চৌধুরী বলেন, “এই উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। নতুন বছর সবার সুখ শান্তিতে কাটুট।
“প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। পার্বত্য অঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”
বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু এই তিন নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈসাবি নামের উৎপত্তি। তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করে বাংলা নববর্ষ। বর্ষবরণ উৎসবকে ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই ও চাকমারা বিজু বলে অভিহিত করে এবং এগুলি বৈসাবি নামে পরিচিত। সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।
এর আগে বৈসাবির অন্য অনুষ্ঠান বিজু ও বৈসু শেষ হয়েছে।
পাহাড়িদের এই সাংস্কৃতিক উৎসবকে সামনে রেখে গত ৪ এপ্রিল জেলা পরিষদ পাঁচ দিনব্যাপী বৈসাবি উৎসবের আয়োজন করেছিল।