Published : 06 Jan 2026, 09:27 AM
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে ব্যাটারি নির্মাণ কারখানার তৈরি করা হয়েছে। এর বিষাক্ত ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের পুরান্দিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১০০ নম্বর পুরান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর তার সীমানা ঘেঁষেই রয়েছে এশিয়া কার বিডি লিমিটেড নামের কারখানাটি।
এখানে পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে ও পুড়িয়ে বের করা হয় সীসা। এই ব্যাটারি পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। বায়ুদূষণের পাশাপাশি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানা এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ হাজার হাজার মানুষের আবাসস্থল। অথচ, এমন একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পোড়ানো হচ্ছে পুরাতন ব্যাটারি।
বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক অলিউল্লাহ বলেন, “এখানে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে নতুন ব্যাটারি তৈরি করা হয়। বিষাক্ত বর্জ্য পোড়ানোর ফলে কালো ধোঁয়া ও বর্জ্য পোড়ার গন্ধে এলাকার পরিবেশ ও জনজীবন বিষিয়ে ওঠেছে। বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। আমরা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সজিব মিয়া বলেন, “প্রায় সময় বিষাক্ত ধোঁয়া বিদ্যালয়কে আচ্ছন্ন করে রাখে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। কোমলমতি শিশুরা ঠিকমত নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। এরই মধ্যে শিক্ষক ও শিশুদের অনেকে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছে। অনেকের চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে।”
শিক্ষার্থীরা বলে, বিষাক্ত ধোঁয়ায় তাদের চোখ জ্বালাপোড়া করে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

এ ব্যাপারে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোসতানশির বিল্লাহ বলেন, “ধোঁয়া কালো হোক বা সাদা, তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মিলের ধোঁয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকারক। তাছাড়া ধোঁয়ার কারণে যে কোনো বয়সের মানুষের শ্বাসকষ্ট হতে পারে।”
বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, এশিয়া কার বিডির ব্যাটারি পোড়ানোর কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ বাজারের ব্যবসায়ীরা। আশপাশে যেসব দোকান-ঘর আছে, সেগুলোর টিনের চালা মরিচা ধরে বেশিরভাগই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে এশিয়া কার বিডি লিমিটেডের কারখানাটিতে গেলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
পরে মোবাইলে রনি নামে কারখানার এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ধোঁয়া বন্ধের জন্য ব্যবস্থা নেবেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাদিরা আফরোজ বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এই নিয়ে মানববন্ধনও করেছেন স্থানীয়রা, তারপরও বন্ধ হচ্ছে না।”
এ বিষয়ে শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. বদরুল হুদা বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। ওই কারখানার ধোঁয়ার বিষয়টি অবহিত হয়েছি। শুনেছি ওখানে আরও একটি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে কোনটির ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে এবং অনুমোদন আছে কি-না- খোঁজ নিতে লোক পাঠানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”