আলভী দোষী না হলে দাফনের আগে আসত: ইকরার বাবা
ময়মনসিংহের ভালুকায় নানা বাড়ির পাশে ইকরাকে দাফন করা হয়।
‘আলভী দোষী না হলে অন্তত আমার মেয়ের দাফনের পূর্বে আসত। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। তার মেয়ের খোঁজ খবর নিত।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব বলেন ছোটপর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।
তার দাবি, “আলভী এক অভিনেত্রীর জন্মদিন পালন করতে নেপাল গেছে। দীর্ঘ বছর ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্কে রয়েছে। যেটা আমার মেয়ে মেনে না নিতে পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।”
রোববার বাদ আসর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে নানা বাড়ির পাশে ইকরাকে দাফন করা হয়।
এর আগে শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ইকরার মৃত্যুর কারণ নিয়ে জানতে চাইলে বাবা কবির হায়াত বলেন, “আমার মেয়ে বিভিন্ন কারণে মারা যেতে পারে। মৃত্যুর ঘটনায় আমরা পল্লবী থানায় মামলা করেছি। ছেলে (আলভী) নেপাল গেছে। বলাবলি হচ্ছে সুটিং করতে নেপাল গেছে।
“আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত আলভী; যা আমার মেয়ে কোনোদিন আমাদের কাছে বলেনি। আমার মেয়েকে আলভীর কাছে বিয়ে দিতে চাইনি, জোর করে বিয়ে করেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।”
এ ঘটনায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আলভীসহ পরিবারের আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর পরকীয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরা ও আলভীর বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁস হয়। যেখানে এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বেশ কয়েক বছর ধরে আলভীর সম্পর্কের ইঙ্গিত করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী ও ইকরা। তাদের সংসারে রিজিক নামের এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
