Published : 09 Jun 2026, 08:45 PM
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী ছাত্রদল ও যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জালকুড়ি দশপাইপ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক।
নিহতরা হলেন- ফতুল্লা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির জিলানী (২৬) এবং কুতুবপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ (২৭)।
জিলানী চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার মুক্তিকান্দি গ্রামের নান্নু খন্দকারের ছেলে এবং মাসুম পটুয়াখালীর দশমিনা থানার চাঁদপুরা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে। তারা দুজনই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে যাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই শাহ্ আলম বলেন, দুজন একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন। তাদের মোটরসাইকেল ও বর্জ্যবাহী ট্রাকটি একই দিকে যাচ্ছিল। দুজনই ট্রাকের চাকার সঙ্গে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
“কেউ বলছেন, ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে; আবার কেউ বলছেন পাশাপাশি যাবার সময় ওভারটেক করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি এখনো আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। আমরা ট্রাকটি পেলেও চালক পালিয়ে গেছেন। আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।”
তিনি বলেন, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন বলেন, মাসুম বিল্লাহ তার নিজের মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। ছাত্রদল নেতা জিলানী ছিলেন পেছনের আসনে। তারা দুজনই দশপাইপ এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিহত দুই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান ওই ছাত্রদল নেতা।
তবে, এ বিষয়ে কথা বলতে সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হিরণের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওরা আমার খুব ক্লোজ ছিল। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের সময় আমি নিজে ওদের জামিন করিয়েছিলাম। আমি এই পরিবারগুলোর পাশে থাকব। সিটি করপোরেশন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে তাদের প্রতি।”