Published : 01 May 2026, 04:08 PM
ফরিদপুর সদরে নিখোঁজ সাত বছরের শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের পরদিন হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারী ও দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চকলেটের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে ‘ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে’ শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে ভাষ্য পুলিশের।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)।
আজমির হোসেন বলেন, “চকলেটের লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যান ইসরাফিল। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। ঘটনাটি পরিবারকে জানাবে বললে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
“লাশ গোপন করতে পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকে রাখা হয়। পরে বাড়ির মালিক নাছিমা বেগম বিষয়টি জানতে পেরে তার ছেলে শেখ আমিন ও রহমানকে লাশ সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা ট্যাংক থেকে লাশ তুলে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাখুণ্ডা কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইন সংলগ্ন কলাবাগানে ফেলে দেন।”
এর আগে ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশুটি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে পরদিন কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা। সাত বছর বয়সী শিশুটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই কলাবাগান থেকে শিশুটির পচাগলা লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পরপর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও ডিবি যৌথ অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ইসরাফিল, আমিন ও নাছিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় আলামত হিসেবে শিশুটির প্যান্ট, স্যান্ডেল ও লাশ বহনের প্লাস্টিকের ড্রাম ও একটি কম্বল জব্দ করা হয় বলে জানান ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেন, আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
ফরিদপুরে কলা বাগানে শিশুর অর্ধগলিত লাশ, মুখ বাঁধা ছিল সালোয়ারে