Published : 13 Sep 2025, 06:58 PM
ফেইসবুকে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন ভারতীয় এক তরুণী। কিন্তু ‘প্রেমিক’ বিয়েতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ভারতে।
পাঁচ দিন বাংলাদেশে অবস্থানের পর শনিবার দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে তরুণীকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থলবন্দর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতিতে ইমিগ্রেশন পুলিশ তরুণীকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।”
২০ বছরের ওই তরুণী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির বাসিন্দা। সেখানকার একটি কলেজের সম্মান (বিএ) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
পাটগ্রাম পৌর শহরের থানা পাড়ার বাসিন্দা আমিনুর রহমানের ছেলে রবির সঙ্গে তরুণীর ফেইসবুকে পরিচয় হয়েছিল। পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে রবি তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে তরুণীকে বাংলাদেশে আসার জন্য বলেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ভোরে অবৈধভাবে কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তরুণী। তার দাবি রবি দালালদের সহযোগিতায় তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।
কিন্তু বিয়ের সময় ঘনিয়ে আসতেই রবি লাপাত্তা হয়ে যান। এতে চরম বিপাকে পড়েন তরুণী।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় ভারতীয় তরুণীকে তার দূর সম্পর্কের চাচার বাড়িতে রাখা হয়। সেখানে পাঁচ দিন অবস্থান করলেও রবির পরিবার তাকে আশ্রয় দেয়নি।
রবির দাদা আলিমুল ইসলাম বলেন, “মেয়েটিকে আমার পছন্দ হয়েছে, আমি বিয়ে করাতে রাজি ছিলাম। কিন্তু নাতি রবিকে পাওয়া যাচ্ছে না। সে থাকলে বিয়ের ব্যবস্থা করতাম।”
শনিবার তরুণীকে ফেরত পাঠানোর সময় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তরুণীর বাবাও উপস্থিত ছিলেন, তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে ফাঁসিয়েছে রবি নামের ছেলেটি। তবে বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় মেয়েকে পেয়ে আমি স্বস্তি পেয়েছি। “
ভারতে ফেরার আগে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তরুণী বলেন, “রবির সঙ্গে ফেইসবুকে পরিচয়, পরে দেড় বছরের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। পরিবার যখন আমার বিয়ে ঠিক করল, তখন রবির ডাকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসি। কিন্তু তার পরিবার আমাকে গ্রহণ না করে রবিকে লুকিয়ে রাখল।”
“আমাকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আমি হেরে গেলাম, জিতে গেল রবি। তাহলে কি আমাকে পাচারের জন্য আনা হয়েছিল? আমি চাই, আমার মতো আর কোনো মেয়ে যেন এমন ভোগান্তির শিকার না হয়।”
তরুণীকে হস্তান্তরের সময় ভারতীয় পুলিশের সুবাল ঘোষ, বুড়িমারী ইমিগ্রেশন ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম, বিজিবি বুড়িমারী বিওপি ক্যাম্প কমান্ডার হাফিজুল ইসলাম, স্থলবন্দর বিজিবি চেকপোস্ট কমান্ডার আনজারুল ইসলাম, পাটগ্রাম থানার এসআই শাহজাহানসহ বিএসএফ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আগের সংবাদ
বিয়েতে প্রেমিকের অনীহায় বিপাকে বাংলাদেশে আসা ভারতীয় তরুণী