১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

খাগড়াছড়িতে হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং

“বিটুমিন নাই শুধু কেরোসিন দেওয়া হয়েছে। হাফ ইঞ্চিও কার্পেটিং নাই। গরু হাঁটলে রাস্তা দেবে যাচ্ছে।”

খাগড়াছড়িতে হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মোহাম্মদপুর মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে পানছড়ি বাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jan 2026, 07:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:32 PM

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সড়কে পিচ ঢালাইয়ের পরদিন হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং।

স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে বন্ধ রয়েছে সড়কের নির্মাণ কাজ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের নিম্নমান নিয়ে প্রতিবাদ করায় ঠিকাদার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রর্দশন করছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পানছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাজু আহমেদ বলছেন, নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি পাওয়া গেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার মোহাম্মদপুর মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে পানছড়ি বাজার পর্যন্ত ২ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরে প্রায় আড়াই কোটি টাকায় সড়কটির নির্মাণ কাজ পান উপ-ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম।

শুরু থেকে সড়ক নির্মাণের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কের মেকাডম পরিষ্কার না করেই নিম্নমানের ইটের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহার করে পিচ ঢালাই বা কার্পেটিংয়ে কাজ শুরু করা হয়। 

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে, সম্প্রতি এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ায়। শুক্রবার অনিয়মের প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করলে কাজ বন্ধ রাখা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. কাশেম ও মো. মোসলেম জানান, একেবারে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। ১৪ নম্বর ইটের খোয়া দিছে। ছোট ছোট বাচ্চারা হাত দিয়ে কার্পেটিং তুলে ফেলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের লোকজনকে অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকবালের অভিযোগ, “বিটুমিন নাই শুধু কেরোসিন দেওয়া হয়েছে। হাফ ইঞ্চিও কার্পেটিং নাই। গরু হাঁটলে রাস্তা দেবে যাচ্ছে। এটা কীসের সলিং? প্রকৌশলীদের সামনে ঠিকাদার চুরি করছেন। পুরোটাই দুই নম্বর কাজ। কেউ কথা বললে ঠিকাদার তার লোকজন দিয়ে হুমকি দেন।

“তিন মাসও সড়কটি টিকবে না। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে সড়কটি ধুয়ে চলে যাবে। সড়কের মাটি বাইরে বিক্রি করছে। আমরা প্রমাণ দিতে পারব। সাদা দুই নম্বর ইটের কংকর। দীর্ঘদিন পর সড়কটি নির্মিত হলেও কাজের মান খুব খারাপ। নতুন করে সড়কটি নির্মাণ করতে হবে।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-ঠিকাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “অফিস যেভাবে কার্যাদেশ দিয়েছে, আমি সেভাবে কাজ করছি। কার্যাদেশে সড়কের কার্পেটিং ২৫ এমএম বা ১ ইঞ্চি ধরা আছে। আর আমি স্থানীয়দের হুমকি দেই নাই।”

প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, “কাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়রা প্রতিবাদ মিছিল করেছে শুক্রবার সন্ধ্যায়। এর মধ্যে সড়কের ৪০০ মিটার কাজ হয়েছে। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি হলে আমরা সেটা যাচাই করব।

“যেটুকু রাস্তা কার্পেটিং হয়েছে, সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হবে। কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ২৫ এমএম এর কম থাকলে নতুন করে কার্পেটিং করতে হবে।”

এ ছাড়া তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।