Published : 15 Aug 2024, 02:18 PM
বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরম সইতে না পেরে বগুড়ার একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ে ২২ শিক্ষার্থী।
রোববার বিকেল সোয়া ৩টায় শহরের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণির কক্ষে এই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আল মামুন সরদার।
পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিনের মতো রোববার দুপুর ২টা ৬ মিনিটে মাধ্যমিক শাখার শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্ন বিরতি দেওয়া হয়। বিকাল ৩টার দিকে তারা বিরতি শেষে শ্রেণিকক্ষে ফেরে।
ওই সময় বিদ্যালয় এলাকায় লোডশেডিং চলছিল। এতে অতিরিক্ত গরমে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার ৩০৪ নম্বর কক্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজাইফা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে ওই কক্ষের আরও দশ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পাশের ৩০২ নম্বর ও ৩০৩ নম্বর কক্ষের সপ্তম ও নবম শ্রেণির ১১ শিক্ষার্থী (ছাত্রী) অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরে শিক্ষকরা অসুস্থদের জলেশ্বরীতলার স্কুল হেলথ ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অভিভাবকদের জিম্মায় বাড়িতে পাঠানো হয়।
অসুস্থ হয়ে পড়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শরিফা আক্তার বলেন, “রোজাইফার শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখে ভয় পেয়েছিলাম। আমারও মাথা ঘোরা ও হাত-পা কাঁপা শুরু হয়। এখন কিছুটা ভালো লাগছে।”
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আল মামুন সরদার বলেন, রোববার সকাল থেকে একরকম ভ্যাপসা গরম ছিল। মধ্যাহ্ন বিরতিতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠে খেলাধুলা করে শ্রেণি কক্ষে ফিরলে তখন বিদ্যুৎ ছিল না।
“রোজাইফার আগে থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। অতিরিক্ত গরমে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এখন সবাই সুস্থ আছে। আগামীতে শিক্ষার্থীদের যেন কোনো সমস্যা না হয় সেই বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে।”
খবর পেয়ে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু ঘটনাস্থলে যান ও শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আরাফত হোসেনও বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিশু বলেন, “রোজাইফা নামের শিক্ষার্থী আগে থেকে অসুস্থ ছিল। দুপুরে গরমে খেলাধুলার পর তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। বাকি শিক্ষার্থীরা ম্যাস সাইকোলজিকাল ডিজিসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ঘটনাটি স্বাভাবিক। এখন সবাই সুস্থ আছে।”
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত গরমে বিদ্যালয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে শিক্ষার্থীরা যাতে মাঠে খুব বেশি খেলাধুলা করতে না পারে সেই বিষয়টি দেখা হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও অবগত করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।