সুষ্ঠু ভোটে বিশ্বাস রেখে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিচ্ছে জাপা

মহাসচিব চুন্নু বলেন, “জাতীয় পার্টি কোনো জোটে যাবে না, ৩০০ আসনেই নির্বাচন করবে। আমরা কারো সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাব না।”

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2023, 12:02 PM
Updated : 22 Nov 2023, 12:02 PM

বিএনপির বর্জনের ঘোষণার মধ্যে জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিল সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।

গত তিনটি নির্বাচনের মতো এবার কোনো জোট বা কারও সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাবে না জানিয়ে তিনশ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে দলটি।

মনোনয়ন ফরম বিক্রির চতুর্থ দিন বুধবার দলীয় চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকল মাধ্যম থেকে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি, নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে, ভোটার নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

“নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তাদের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস রেখে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করছি।”

আগামী ৭ জানুয়ারির ভোটের তারিখ দিয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নির্বাচন কমিশন যে তফসিল ঘোষণা করেছে, তাতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জাতীয় পার্টি এতদিন সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থানের কথা জানায়নি।

তবে গত শনিবার নির্বাচন কমিশনে দলের পক্ষ থেকে দুটি চিঠি যায় নির্বাচন কমিশনে।

দলীয় প্যাডের চিঠিতে মহাসচিব চুন্নু জানান, তাদের দলের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তার চারটি নমুনা সাক্ষরও উল্লেখ করা হয় এই চিঠিতে।

একই দিন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ বলেন, আগের নির্বাচনের মতোই তার দলের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি মহাজোটের প্রতীকেও ভোটে অংশ নেবেন।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচন থেকেই আওয়ামী লীগ, ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি আসন সমঝোতা করে ভোটে অংশ নিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়ার পরের দিন থেকে দলটি আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে। তবে চুন্নুর বক্তব্য ছিল এই যে, ‘এর মানে এই না যে তারা ভোটে আসছেন। কেবল প্রস্তুতিগুলো এগিয়ে রাখছেন।’

গত শনিবার তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যদি তারা মনে করেন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে তাহলেই তারা ভোটে আসবেন।

‘জোটবদ্ধ নয়, এককভাবে নির্বাচন’

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট নিয়ে এক প্রশ্নে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, “জোটবদ্ধভাবে না, এককভাবে অংশ নেব।”

গত তিনটি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দুটিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে। মাঝের বিএনপির বর্জনে দশম সংসদ নির্বাচনে জোট না থাকলেও আসন সমঝোতা হয় দুই দলে।

এবারও বিএনপি ভোটে না আসার সিদ্ধান্তে অটল। সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ জোট করবে কি না- এই প্রশ্নে চুন্নু বলেন, “জাতীয় পার্টি কোনো জোটে যাবে না, ৩০০ আসনেই নির্বাচন করবে।… আমরা কারো সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাব না।”

এককভাবেই নির্বাচনে ভালো করার বিষয়ে আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টি স্বচ্ছ রাজনীতি করে এবং আমাদের কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অপবাদ নেই। গত ৩৩ বছর দেশের মানুষ আমাদের শান্তিপ্রিয় রাজনীতি পছন্দ করেছে। আমরা আশা করছি, ৩০০ আসনেই আমরা শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব।”

বুধবার দুপুর পর্যন্ত দলের প্রায় ১৪শ মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে জানিয়ে জাপা মহাসচিব জানান, প্রায় প্রতিটি আসনেই একাধিক আগ্রহী প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন।