Published : 05 Jan 2026, 04:47 PM
বগুড়ায় টানা কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রায় দশ দিন ধরে রোদের দেখা নেই।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে, স্বস্তির খোঁজে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ভিড় জমেছে শহরের ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে।
বগুড়া আবাহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা (টেলিপ্রিন্ট অপারেটর) মো. সাইদুজ্জামান জানান, সোমবার এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
গত শুক্রবার ও শনিবার দুদিন হালকা রোদের দেখা মিললেও আবারও রোদবিহীন আবহাওয়া বিরাজ করছে।
প্রতিটি শীতবস্ত্রের দোকানে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের হকার্স মার্কেট, স্টেশন রোড, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, সার্কিট হাউস সড়ক ও জিরো পয়েন্ট সাতমাথায় নানা রঙের ও নানা ডিজাইনের শীতের কাপড়, কান টুপি ও হাত মোজা নিয়ে বসছেন হকাররা।
দোকানগুলোতে ৫০ টাকা থেকে ৮ শত টাকায় শীতের সোয়েটার, ব্লেজার এবং জ্যাকেট বিক্রি হচ্ছে। পুরাতন এই সব কাপড়ের সঙ্গে গার্মেন্টসের শীতবস্ত্রও বিক্রি করতে দেখা গেছে।
পুরাতন পাইকারী শীতবস্ত্র বিক্রেতা হকার্স মার্কেটের দোকানদার সরাফত আলী বলেন, “জ্যাকেট, সোয়েটার মহাজনরা তাইওয়ান, কোরিয়া থেকে জাহাজ যোগে আমদানি করে। আমরা চট্টগ্রাম থেকে সেই সব কাপড় কিনে এনে খুচরা ব্যাবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি।
“তারা ওইসব মালামাল ফুটপাতে বিক্রি করে থাকে। এসব বস্ত্র মানেও ভালো দামেও কম। নুতন একটি জ্যাকেট বাজার থেকে কিনতে গেলে তিন হাজারের কম হবে না। তা এখানে আটশ টাকায় পাওয়া যায়। অথচ মানেও উন্নত।”
দেশীয় গার্মেন্টসের তৈরি জ্যাকেট বিক্রেতা সাহজান বলছিলেন, “দোকানে যে জ্যাকেটের দাম ২ হাজার টাকা আমরা সেই জ্যাকেট ছয়শ টাকায় বিক্রি করে থাকি। এই প্রচণ্ড শীতে বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশী।”
শহরের মালতি নগরের বাসিন্দা রাজু আহাম্মেদ বলেন, “কম দাম হলেও মানে ভালো। মার্কেটে অনেক দাম তাই ফুটপাত থেকে জ্যাকেট কিনলাম ৫০০ টাকায়।”
শহরের কলোনি এলাকার তাবাসসুম বলেন, “নিজের জন্য সোয়েটার এবং বাচ্চারর জন্য কান টুপি কিনলাম সাশ্রয়ী দামে।
“মার্কেট থেকে বেশি দামে কেনার সাধ্য নেই। জিনিসের মান কিন্তু ভালো।”