চাঁদপুরে টাকার লেনদেনে কসাই খুন, ১০ বছর পর যাবজ্জীবন
মামলার অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের অব্যাহতি দেয়।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে এক কসাইকে শ্বাসরোধে হত্যার প্রায় ১০ বছর পর আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কোহিনুর রশিদ।
দণ্ড পাওয়া সুজন সরকার (৩৫) মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়াধারী গ্রামের সুদর্শন আইচ্চাইল্লা সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় জেলে এবং বড় স্টেশন এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন।
মামলার বরাতে পিপি কোহিনুর বলেন, ২০১৬ সালের ২ মার্চ রাতে উপজেলার ঘোড়াধারী গ্রামের একটি জমির পাশে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরদিন ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, নিহত ব্যক্তি চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ক্লাব রোড এলাকার নুর মোহাম্মদ। তিনি পেশায় কসাই ছিলেন। বড় স্টেশন এলাকায় গরু জবাই ও মাংস বিক্রি করতেন।
মামলার তদন্তে পুলিশ সুজন সরকারকে গ্রেপ্তার করে। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়াধারী গ্রামের বাসিন্দা এবং বড় স্টেশন এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ব্যবসার সূত্রে নুর মোহাম্মদ ও সুজনের পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে টাকার লেনদেনও ছিল। এই লেনদেনকে কেন্দ্র করে সুজন নুর মোহাম্মদকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতলব দক্ষিণ থানার এসআই তপন চন্দ্র দাস ২০১৭ সালের ২৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন বলে জানান পিপি।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিকে যাবজ্জীন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান তিনি।
মামলার অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।
