Published : 17 Feb 2026, 05:49 PM
সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার থেকে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আগেই। এবার প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই আরিফুল হক চৌধুরী জায়গা করে নিলেন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায়।
দুই দশক পর আবার সরকার পরিচালনা করতে যাওয়া বিএনপির মন্ত্রিসভায় ২৫ পূর্ণমন্ত্রীর একজন হলেন।
মন্ত্রী হিসেবে প্রথম দায়িত্বেই দুই মন্ত্রণালয়ের ভার চাপছে তার কাঁধে। শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার খবর এসেছে।
মন্ত্রী হওয়ার ডাক পাওয়ার পর আরিফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “সবাইকে নিয়ে চলব। দল তৃণমূলের একজন কর্মীকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, এর প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসনে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আরিফুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর জয়নাল আবেদীন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট পেয়েছেন।
প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই এবার তিনি জায়গা পেলেন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায়।
আরিফুল হক চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “একজন তৃণমূলের কর্মী থেকে নেতা হয়ে ওঠা আরিফুল হক চৌধুরী মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা অত্যন্ত খুশি। আশা রাখছি, সিলেটের উন্নয়নে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রাখবেন।’’
প্রথমে সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আরিফুল হক। তবে এ আসনে মনোনয়ন পান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তারির।
পরে গত ৫ নভেম্বর রাতে দলের হাইকমান্ড থেকে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার নির্দেশ পান আরিফুল হক। এরপর ৭ নভেম্বর থেকে তিনি নির্বাচনি এলাকায় প্রচার শুরু করেন। ৪ ডিসেম্বর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়।
আরিফুল হক বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য। এর আগে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আগে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এবং তখনকার বিএনপি-দলীয় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে মূলত তার রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন।
সেই সঙ্গে তিনি তখন সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময়টাতে প্রয়াত অর্থমন্ত্রীর সাইফুর রহমানের সিলেটকেন্দ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরিফুল হকই দেখভাল করতেন। তাকে তখন অনেকে ‘ছায়া অর্থমন্ত্রী’ হিসেবেও মনে করতেন।
আরিফুল হক ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার মেয়র হন। ২০১৮ সালে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চারটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। একমাত্র সিলেটে বিএনপি থেকে আরিফুল হক মেয়র নির্বাচিত হন। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনি প্রার্থী হননি।
বিএনপির মনোনয়নে আরিফুল টানা দুই মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়ে সিলেটে অনেক উন্নয়নকাজ করেছেন। দলমত-নির্বিশেষে সব মহলের কাছে তার একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। সবশেষ ২০২৩ সালের ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আরিফুলকে অংশ নেওয়ার জন্য দলের বাইরের ভোটারদের চাপ ছিল।
তবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় জয় অনেকটা নিশ্চিত জেনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি। এতে দলের নেতাকর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ে।
সিলেট‑৪ আসনে আওয়ামী লীগের ইমরান আহমেদ সাতবার এমপি হয়েছেন। তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।