Published : 29 Aug 2025, 01:40 PM
শরীয়তপুরের জাজিরায় বিএনপি নেতা হত্যার মামলার প্রধান আসামি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্বজনদের দাবি- বিএনপি নেতাকে হত্যার ঘটনার পরপরই সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকেও কুপিয়ে হত্যা এবং লাশ গুম করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বড়কান্দি ইউনিয়নের উমরদি মাদবর কান্দি এলাকা থেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলমাস সরদারের মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন জাজিরা থানার ওসি মাইনুল ইসলাম।
২৬ বছর বয়সী আলমাস বড়কান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে মসজিদে আজান দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে একই ইউনিয়নের বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খবির সরদারকে (৫০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠে আলমাসের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় খবির সরদারের ভাই দানেশ সরদার বাদী হয়ে আলমাসকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে জাজিরা থানায় হত্যা মামলা করেছিলেন।
এর দুদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে আলমাসের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হল।
পুলিশ জানায়, ওই এলাকার জব্বার মাস্টারের পরিত্যক্ত বাড়ির পাশ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ তা উদ্ধার করলে স্বজনরা মরদেহটি আলমাসের বলে শনাক্ত করে।
আলমাস সরদারের বন্ধু রাব্বি শাহ বলেন, “ঘটনার দিন রাতেই আমার বন্ধুকে খবির সরদারের পক্ষের ১০-১২ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকলে সে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। আমি সবাইকে বললেও কেউ বিশ্বাস করেনি।“
“বৃহস্পতিবার রাতে তার বস্তাবন্দি লাশ মাটির নিচে পাই। যারা আমার বন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের আমি বিচার চাই।”
নিহতের বোন লিপি আক্তার বলেন, সেদিন রাত থেকেই তারা ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। কিন্তু মামলার ভয়ে তারা অভিযোগ দিতে থানায় যেতে পারেননি।
ওসি মাইনুল বলেন, আলমাস সরদারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
আগের সংবাদ
ইমামকে 'হুমকি', 'প্রতিবাদ করায়' বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা