Published : 19 Jul 2026, 04:43 PM
কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যু দিবসে গাজীপুরে নুহাশ পল্লীতে নানা আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রয়াত এই সাহিত্যিকের কবরে ফুলেল শুভেচ্ছা ও কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।
শুধু হুমায়ূন আহমেদের লেখা বই নিয়ে উন্মুক্ত লাইব্রেরি স্থাপন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রস্তাবের জবাবে তিনি বলেন, “একবার হুমায়ূন আহমেদের লেখা বইগুলো নিয়ে সবার জন্য উন্মুক্ত লাইব্রেরি স্থাপনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অনেক পাঠক বই পড়ে আর তা ফেরত না দেওয়ায় ওই লাইব্রেরি স্থাপনের উদ্যোগ থেকে সরে যাওয়া হয় না।”
শাওন বলেন, “১৪ বছর ধরে শুধুমাত্র আমরা নুহাশ পল্লীর কর্মীরা মিলে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ও মৃত্যু দিন নিয়মিত পালন করছি। এর বাইরে তার জন্ম-মৃত্যু দিন পালনে রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে আমার কিছু চাওয়ার নেই।
“এক সময় আশা ছিল, কিন্তু এখন কোনো চাওয়াও নেই, আশাও নেই। আমরা পালন করে যাব, যতদিন হুমায়ূন ভক্তরা থাকবে, নুহাশ পল্লীর একটি কর্মীও থাকবে আমার সন্তানরা আছে। ততদিন আমরা হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ও মৃত্যুদিন পালন করে যাব।”
সেইসঙ্গে নুহাশ পল্লীসহ কয়েকটি স্থানে হুমায়ূন আহমেদের লেখা বই সংরক্ষণ করা আছে; যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দেন শাওন।
এ সময় হুমায়ূন আহমেদের দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত ছাড়াও নুহাশ পল্লীর কর্মী ও ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনটি পালন উপলক্ষে নুহাশ পল্লীতে কোরআন তেলাওয়াত ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া সাড়ে তিনশ এতিমের খাবার বিতরণসহ নেওয়া হয় নানা কর্মসূচি।
সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হুমায়ূন আহমেদের পরিবার, তার ভক্ত, কবি, লেখক আর নাট্যজনদের ভিড় জমে লেখকের কবরে নুহাশ পল্লীর লিচু তলায়। তারা ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করেন জনপ্রিয় এ লেখককে।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ।
২০১২ সালে ১৯ জুলাই মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী হুমায়ূন তার সৃষ্টিশীল কর্মের মাধ্যমে এদেশে ভক্ত ও অনুরাগীদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন বলে প্রত্যাশা ভক্তদের।