Published : 07 Aug 2025, 12:05 PM
পঞ্চগড়ে পুরানো বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শহরের সিনেমা হল মার্কেটের সামনে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ জানান।
শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা জহিরুল হকের ছেলে ১৯ বছর বয়সী নিহত জাবেদ রহমান জয় পঞ্চগড় এম আর সরকারি কলেজ থেকে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।
তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
জয় নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই স্থানীয় এলাকাবাসী শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে।
ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, ছাত্রদলের কর্মী জয়ের অনুসারীদের সঙ্গে নতুনবস্তি এলাকার আলামিনের নেতৃত্বাধীন আরেকটি দলের বুধবার দুপুর থেকে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। রাতে জয় একাই সিনেমা হল মার্কেটের সামনে গেলে প্রতিপক্ষের ১০ থেকে ১২ জন তাকে ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে আলামিন ধারালো ছুরি দিয়ে জয়ের পেটে আঘাত করলে তার নাড়ি ভুঁড়ি বের হয়ে যায়।
পরে জয়কে উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, “নিহতের পেটের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত ছিল এবং নাড়ি ভুঁড়ি বের হয়ে এসেছিল।
“আমরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা ভেতরে ঢুকিয়ে সেলাই করি এবং তাকে রংপুরে রেফার করি। তার এক হাতের তালুতেও আঘাতের চিহ্ন ছিল।”
জয়ের নিহতের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই আশরাফ আলী বলেন, “রাতে কয়েকজন মোটর সাইকেল নিয়ে জয়কে খুঁজছিল। আমিও তাকে না পেয়ে দোকানে যাই। পরে ফোনে জানতে পারি জয়কে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তার পেট কেটে নাড়ি ভুঁড়ি বের করে দেওয়া হয়েছে।
“দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দেখি, জয়ের অবস্থা গুরুতর। পরে রংপুর নেওয়ার পথে সে মারা যায়। আমরা এই নির্মম হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, “হত্যাকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে দুজনের নাম পাওয়া গেছে; আল-আমিন ও পারভেজ। নিহত ও অভিযুক্তরা উভয়ই ছাত্রদলের কর্মী।”
হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে পূর্ব শত্রুতার তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।