২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্দোলনে নিপীড়ন: ডুয়েট ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

তাদের হল থেকে আজীবন বহিষ্কার, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে এক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারিত্রিক সনদপত্রে শাস্তির বিষয়টি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Dec 2024, 11:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:07 AM

গণআন্দোলনের আগে-পরে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ডুয়েটের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাদের হল থেকে আজীবন বহিষ্কার, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে এক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চারিত্রিক সনদপত্রে শাস্তির বিষয়টি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ডুয়েটের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার প্রত্যেকের নামে আলাদা নোটিস জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বহিষ্কৃতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মিঠুন, সাধারণ সম্পাদক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান মান্না, সাবেক প্রচার সম্পাদক ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী প্রতাপ কুমার, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন রিফাত, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোজ্জামেল হোসেন শাহীন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান তুহিন, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুল আলম শান্ত।

এ ছাড়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহমেদ প্রিন্স, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী পারভেজ মিয়া মাহিন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাসিন মাহমুদ ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এম এম সায়মুনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

তাদের ওপর শাস্তি কেন আরোপ করা হবে না- তার জবাব সাত দিনের মধ্যে ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক উৎপল কুমার দাসকে দিতে বলা হয়েছে নোটিশে। শাস্তির ব্যাপারে আপত্তি থাকলে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে আপিলের সুযোগের কথাও বলা হয়েছে সেখানে।

অধ্যাপক উৎপল কুমার দাস বিডি নিউজকে বলেন, “১৪ জনকে সাজা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে তাদের সাজার ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা আছে। এক্ষেত্রে কেউ আছে তাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে, তাদেরকে তো আর একাডেমিক শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না।

“তাদের বেলায় সকল কাগজপত্র আমাদের কাছে এক বছরের জন্য জব্দ করে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। আবার দুইজন মাস্টার্সের ছাত্র, তাদের অপরাধের মাত্রা বেশি থাকায় তদন্ত কমিটি তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করেছে। এরকম ১৪ জনকে বিভিন্ন মাত্রার শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।”

ডুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক প্রতাপ কুমারের দাবি, “ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছাড়াও শাস্তির তালিকায় সাব্বির ও উজ্জ্বলসহ চারজন সাধারণ শিক্ষার্থী রয়েছে। ছাত্রশিবির ও জামাতের নেতাকর্মীরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের নামের তালিকা করে শাস্তির আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করছে।”