১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চুলের যত্নে নব্য ধারা ‘হেয়ার সাইক্লিং’

প্রতিদিন একই শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুলের বারোটা বাজাচ্ছেন না-তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2026, 07:02 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

সুন্দর, ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল ধরে রাখতে সাধারণত প্রতিদিন একই শ্যাম্পু, কন্ডিশনার কিংবা ‘হেয়ার অয়েল’ ব্যবহার করতে পছন্দ করেন।

তবে কেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর প্রতিদিন একই প্রসাধনী চুলে মাখা মোটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়।

অতিরিক্ত কেমিক্যালের ওজনের কারণে চুলের  স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধানে বিশ্বজুড়ে এখন আলোচিত এবং আধুনিক কেশ পরিচর্যার ধারা হল ‘হেয়ার সাইক্লিং’ বা ‘চুলের পর্যায়ক্রমিক যত্ন’।

এর প্রধান ভিত্তি হলে, প্রতিদিন একই প্রসাধনী ব্যবহার না করে, একটি নির্দিষ্ট চক্র বা রুটিন অনুযায়ী একেক দিন একেক প্রয়োজন পূরণ করা এবং চুল ও স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

যে কারণে হেয়ার সাইক্লিং জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও চর্মরোগ বিজ্ঞান বিভাগের ক্লিনিক্যাল সহকারী অধ্যাপক ডা. মেরি এল. স্টিভেনসন, সৌন্দর্য-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘বার্ডি ডটকম’য়ে বলেন, “মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পের নিজস্ব একটি প্রাকৃতিক তেল উৎপাদন ব্যবস্থা থাকে, যা চুলের গোড়াকে পুষ্টি যোগায়।”

‘হেলথলাইন ডটকম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্কিন কসমেটিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোশুয়া জেইচনার বলেন, “প্রতিদিন কড়া শ্যাম্পু ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। শ্যাম্পুর কেমিক্যাল ও স্টাইলিং পণ্যের অবশিষ্টাংশ লোমকূপে জমে গিয়ে ‘প্রোডাক্ট বিল্ড-আপ’ তৈরি করে। ফলে নতুন চুল গজানো বন্ধ হয়ে যায় এবং গোড়া নরম হয়ে চুল পড়ার হার বহুগুণ বেড়ে যায়।”

“হেয়ার সাইক্লিং’ আসলে চুলের ‘ওভারলোড’ বা অতিরিক্ত পণ্য জমা কমিয়ে, এর প্রাকৃতিক পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়াকে সচল রাখে”, মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।

হেয়ার সাইক্লিং বা পর্যায়ক্রমিক যত্নের ৫ দিনের চক্র

চুলের কোনো ক্ষতি ছাড়া সফলভাবে যত্নের চক্র সম্পন্ন করতে, এই চিকিৎসক ৫ দিনের একটি সুনির্দিষ্ট রুটিন মানার পরামর্শ দেন।   

১ম দিন, গভীর পরিচ্ছন্নতা: এই দিন মাথার ত্বকে জমে থাকা সব তেল, ধুলোবালি ও কেমিক্যালের আস্তরণ দূর করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়। এর জন্য একটি ভালো ‘ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু’ বা স্যালিসিলিক অ্যাসিড যুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে মাথার ত্বক ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এটি লোমকূপের মুখ খুলে দেয় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।

২য় দিন, আর্দ্রতা পুনরুদ্ধার: গভীর পরিচ্ছন্নতার পর চুল কিছুটা শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই দ্বিতীয় ধাপে চুলের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। এই দিন চুলে কোনো কড়া কেমিক্যাল ব্যবহার না করে একটি মৃদু বা সালফেট-মুক্ত ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। শ্যাম্পু শেষে চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে গোড়া পর্যন্ত একটি পুষ্টিকর কন্ডিশনার বা হেয়ার মাস্ক লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলা উপকারী।

৩য় ও ৪থ দিন, চুলের বিশ্রাম: ‘হেয়ার সাইক্লিং’য়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল, চুলকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়া। এই দুদিন চুলে কোনো শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা কোনো প্রকার ড্রায়ার ও স্টাইলিং টুলস ব্যবহার করা যাবে না। কেবল গোসলের সময় সাধারণ বিশুদ্ধ পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে। এটি মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক সেবাম বা তেলকে চুলে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে, যা চুলের উজ্জ্বলতা প্রাকৃতিকভাবেই ফিরিয়ে আনে।

৫ম দিন, পুষ্টি উপাদান স্থায়ী করা: এই দিন চুলের কিউটিকেল ও ভাঙা গোড়া পুনর্গঠনের জন্য কাজ করা হয়। চুল ধোয়ার পর সামান্য ভেজা বা আর্দ্র থাকা অবস্থায় কয়েক ফোঁটা রোজমেরি তেল, আর্গন তেল বা ‘লাইট হেয়ার সিরাম’ আলতো করে চুলে মেখে নিতে হবে। এটি চুলের পুষ্টি ভেতরে আটকে দেয় এবং মেঝের ধুলোবালি থেকে চুলকে রক্ষা করে।

যাদের জন্য হেয়ার সাইক্লিং জরুরি

ক্ষতিগ্রস্ত ও রং করা চুল: যারা নিয়মিত চুলে রং, রিবন্ডিং বা স্টাইলিং হিটার ব্যবহার করেন, তাদের চুলের রুক্ষতা দূর করতে এই পদ্ধতি কার্যকর।

তৈলাক্ত মাথার ত্বক ও খুশকি: যাদের মাথায় দ্রুত তেল জমে এবং খুশকির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য প্রথম দিনের ‘ক্ল্যারিফাইং’ ধাপটি স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।

চুলের যত্ন নেওয়া মানেই প্রতিদিন অনেক পণ্য ব্যবহার করা নয়।

ডা. মেরি এল. স্টিভেনসনের মতে, “রূপচর্চার মতো কেশ পরিচর্যাতেও ‘লেস ইজ মোর’ অর্থাৎ যত কম এবং পরিকল্পিত উপায়ে প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে, চুল তত বেশি দীর্ঘমেয়াদী ও সুরক্ষিত থাকবে।”

পাঁচ দিনের এই সহজ চক্রটি নিয়মিত অনুসরণ করলে চুল পড়া বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি চুলের প্রাকৃতিক ঘনত্ব ও সিল্কিভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন

প্রাকৃতিকভাবে চুল ঘন দেখানোর উপায়

ঘরে থেকেও সুন্দর চুল

চুল লম্বা না হওয়ার যত কারণ