১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গুটিপার ব্যাগে দেশীয় নান্দনিকতার ছোঁয়া

ফ্যাশন আর প্রয়োজনের সমন্বয়ে নারী হাতের ব্যাগের কারিগরও নারী।

রিফাত পারভীন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 04:44 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

কাঁধে সুন্দর ব্যাগ নিয়ে পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ফ্যাশনের অনুষঙ্গ। আবার ব্যাগ মানে অফিসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ল্যাপটপ, প্রসাধনী কিংবা সারাদিনের ছোটখাটো জিনিস গুছিয়ে রাখার নির্ভরযোগ্য সঙ্গীও।

আর চামড়ার তৈরি ব্যাগ নিয়ে গুটিপা’র গল্পটা একটু অন্যরকমই। ২০১৬ সালে এই উদ্যোগ নিয়ে যাত্রা শুরু করেন তাসলিমা মিজি।

“নিজেদের নারী মালিকানাধীন ও পরিচালিত ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচয় দিতেই গুটিপা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য পায়”, বলছিলেন তাসলিমা মিজি।

স্থানীয় কারিগর, বিশেষ করে নারী কারিগরদের দক্ষতা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি সামনে আনতে চেষ্টা করছে এই দেশীয় ব্যাগের ব্র্যান্ড।

উদ্যোক্তার ভাষ্য, “গুটিপার পণ্য বাংলাদেশেই তৈরি হয় এবং নকশায় সৌন্দর্যের পাশাপাশি ব্যবহারিক দিকটিও গুরুত্ব পায়।”

ব্যাগের সামনে একজন নারী, পেছনে আরেকজন

ব্যাগের দোকানে গিয়ে সাধারণত ক্রেতার চোখ আটকে যায় নকশা, রং, আকার কিংবা চামড়ার মানে। কোনটি অফিসে নেওয়া যাবে, কোনটি ভ্রমণের জন্য সুবিধাজনক, কোনটিতে বেশি জিনিস রাখা যাবে— এসব নিয়েই চলে পছন্দের হিসাব।

তবে সেই ব্যাগ তৈরির সময় কারিগরের হাত কতবার চামড়ার ওপর কাজ করেছে, কতবার কেটেছেন, সেলাই করেছেন কিংবা নকশা ঠিক করেছেন, সেই হিসাবটি সামনে আসে বেশ কম সময়।

গুটিপার কাজের একটি দিক হল, অদৃশ্য শ্রমকে দৃশ্যমান করা।

তাসলিমা মিজি বলেন, “কারখানায় ৬০ ভাগ নারী কারিগরদের ব্যাগ তৈরির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। কারণ শুধু পণ্য তৈরি করা নয়, নারী কারিগরদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি এবং কাজের জায়গায় ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করাও আমাদের উদ্দেশ্য।”

কারিগরের হাত থেকে নারীর কাঁধে

“দেশে চামড়াজাত পণ্য তৈরি হয় অনেক আগে থেকেই। তবে আধুনিক নকশা ও ব্যবহারিক সুবিধা মিলিয়ে স্থানীয়ভাবে তৈরি ব্যাগের ব্র্যান্ড তৈরির জায়গাটি এখনও বিকাশমান”, মন্তব্য করেন এই উদ্যোক্তা।

পোশাকের ফ্যাশন খুব দ্রুত পরিবর্তন হলেও, বাংলাদেশে ব্যাগের ট্রেন্ডে পরিবর্তন দেখা যায় লম্বা সময় পরপর। আর এই পরিবর্তন আসলে নারীর জীবনযাত্রার সঙ্গেই সম্পর্কিত।

মিজি বলেন, “আগে একটি ব্যাগ হয়ত শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস বহনের উপকরণ ছিল। এখন সেটি পোশাকের অংশ, ব্যক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যম এবং কাজের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় একটি ব্যবহারিক সামগ্রীও।”

অফিসে যাওয়ার জন্য বড় ব্যাগে ফাইল বা প্রয়োজনীয় জিনিস রাখতে হয়। আবার অনেকে ছুটির দিনে ছোট ব্যাগই বেছে নেন। এছাড়া ভ্রমণের জন্য প্রয়োজন হয় ব্যাকপ্যাক।

তাই এই বিষয়কে সামনে রেখেই গুটিপা কাজের ব্যাগ, হাতব্যাগ, টোট, ভ্রমণের ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য নকশা করে।

আবার রংয়ের দিক দিয়েও থাকে ভিন্নতা। যেমন সবুজ বা হলুদের উজ্জ্বল রং।

শুধু সুন্দর হলেই হবে না

ব্যাগ দেখতে সুন্দর, এটি প্রথমে চোখে পড়লেও আসলে ব্যবহার করার পরই বোঝা যায় সেটি কতটা কার্যকর। ভেতরে জায়গা কতটুকু, আলাদা চেইন, মোবাইল রাখার ব্যবস্থা, ব্যাগ হালকা বা কতটা সহজে বহন করা যায় এসব বিষয়ও এখন ব্যাগের ট্রেন্ড তৈরি করে।

তাই গুটিপার ব্যাগের নকশায় একাধিক চেইন, মোবাইল রাখার আলাদা জায়গা, জিপ পকেট কিংবা লম্বা বেল্টের মতো সুবিধা রেখেই নকশা করা হয়। 

এখন সাধারণ হাতব্যাগেও তিনটি আলাদা অংশ দেখা যায়। অর্থাৎ জিপ পকেট। পাশাপাশি মোবাইল রাখার পকেটও ব্যাগের নকশার অংশ।

আধুনিক ফ্যাশনের ধারায় পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহৃত উপাদান জোর দেওয়া হয়। তাই গুটিপার ব্যাগে পুনর্ব্যবহৃত পলিইথিলিন টেরেফথালেট দিয়ে তৈরি কাপড়ের আস্তরণও থাকে।

ফ্যাশনেও টেকসই

এসময়ে ফ্যাশন নিয়ে আলোচনা শুধু নকশা বা রংয়ের আটকে নেই। কারণ কীভাবে পণ্যটি তৈরি হচ্ছে, কারা তৈরি করছেন, কর্মীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে এবং উৎপাদনের পরিবেশগত প্রভাব কতটা- এসব জায়গাও ফ্যাশন, ট্রেন্ডের সঙ্গে যুক্ত।

তাই গুটিপার ই-প্ল্যাটফর্ম ও ধানমন্ডির শোরুমে সাজানো ব্যাগ ক্রেতার চোখে একটি পণ্য। সেটি আবার একটি কর্মসংস্থানের, স্থানীয় দক্ষতার আর নারী উদ্যোক্তার গল্প। আর একজন নারীর হাতে আরেক নারীর শ্রম পৌঁছে যাওয়ার উপন্যাস।

আরও পড়ুন

জামদানি শাড়ির যত্নে বাড়তি মনোযোগ

আদিবাসী তাঁতশিল্পে নিসর্গের ছোঁয়া

কম বাজেটে যেভাবে ট্রেন্ডি থাকা যায়