বৈধপথে রেমিটেন্স পাঠাতে আবুধাবিতে প্রবাসীদের সভা

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, "আমরা এসেছি এদেশে আমাদের যে দশ লাখ প্রবাসী আছেন, আপনাদের কথা শুনতে, সমস্যা কোথায় তা চিহ্নিত করতে।"

জাহাঙ্গীর কবীর বাপপিসংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে
Published : 19 Sept 2022, 06:05 AM
Updated : 19 Sept 2022, 06:05 AM

বৈধপথে রেমিটেন্স পাঠাতে প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ মিশন।

স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে আবুধাবিতে দূতাবাসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুস সালেহীন, রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবু জাফর, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ খুরশিদ ওয়াহাব, দুবাইয়ে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট এর কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন, ডাচ বাংলা ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট উত্তম কুমার সাহা, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি আবুধাবির সভাপতি ইফতেখার হোসেন বাবুল এবং দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর আবদুল আলিম মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবু জাফরের সভাপতিত্বে এবং শ্রম সচিব লুতফুন নাহার নাজিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুল হক খন্দকার, বিমানের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ চৌধুরী, ইউনুস মিয়া চৌধুরী, আশীষ বড়ুয়া, প্রবাসী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর কবীর বাপপি, নাসির তালুকদার, সুলতান আহমদ, কাজী মোহাম্মদ ফরহাদ, সজল চৌধুরী, ইলিয়াস হাওলাদার ও নাসির উদ্দিন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, “যে পরিমাণ রেমিটেন্স বৈধপথে আসে তার সমপরিমাণ আসে অবৈধ পথে। সরকারের উন্নয়নের জন্য রেমিট্যান্স ফ্লো ধরে রাখতে হবে, রিজার্ভ বাড়াতে হবে। আমরা এসেছি এদেশে আমাদের যে দশ লাখ প্রবাসী আছেন, আপনাদের কথা শুনতে, সমস্যা কোথায় তা চিহ্নিত করতে। হুন্ডি ব্যবসা যারা করছে, হুন্ডির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে হবে।”

আবুধাবি জায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক হাবিবুল হক খোন্দকার বলেন, “সেবাটা বাড়াতে হবে এবং তা এমন না যে কেবল আবুধাবিতে জনতা ব্যাংকের সেবা বাড়াতে হবে, দেশে গ্রাহক পর্যায়ে ভাল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের যে কাউকে যদি জিজ্ঞেস করেন কোন ব্যাংকে আপনি ভাল সার্ভিস পান, উত্তরে তারা ডাচ বাংলা ব্যাংকের কথা বলবেন, তারা অনেকগুলো প্রাইভেট ব্যাংকের কথা বলবেন, কিন্তু সরকার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকের কথা বলবেন না।”

আবুধাবি প্রবাসী ইফতেখার হোসেন বাবুল বলেন, “প্রবাসীদের সচেতন করার জন্য এ ধরণের অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সিংহভাগ প্রবাসী শ্রমিক যেখানে থাকেন সেই শিল্প এলাকাগুলোতে, মাজরায় কৃষি শ্রমিকদের রেমিট্যান্স কীভাবে সংগ্রহ ও বাংলাদেশ প্রান্তে সহজে পৌঁছানো যায় তার উদ্যোগ নিতে হবে।”

আল আইন প্রবাসী শেখ ফরিদ বলেন, “এসব অনুষ্ঠানে প্রান্তিক পর্যায়ে যে শ্রমিকরা আছেন তাদের সম্পৃক্ত করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। হুন্ডির প্রকোপ বন্ধ করতে স্থানীয় নেতাদের নিয়ে যারা হুন্ডি ব্যবসা করে তাদের সতর্ক করে দিতে হবে, প্রয়োজনে তাদের শক্ত হাতে দমন করতে হবে, তাতে হুন্ডি কমবে এবং তা রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির সহায়ক হবে।”

প্রবাসী সংগঠক নাসির তালুকদার বলেন, “নানা কারণে আমিরাত প্রবাসে অনেকেই অবৈধ হয়ে পড়ছেন, তারা বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন না। দূতাবাসের সহযোগিতায় তাদের বাংলাদেশি নাগরিকের প্রমাণ্য প্রদান করে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এদেশে ৬০ হাজারের ওপর নারী শ্রমিক থাকলেও তাদের ২০ শতাংশেরও বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের সুবিধা নেই, তাদের কাজের ধরণের কারণে।”

প্রবাসী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর কবীর বাপপি বলেন, “এনআইডি ছাড়া আমরা দেশে গিয়ে যখন একটা মোবাইল সিমও ক্রয় করতে পারি না তখন নিজেদের নিজভূমে পরবাসী মনে হয়। আমাদের কথা- পাসপোর্ট কেন ডিজিটাল বাংলাদেশে এনআইডি- এর সম্পূরক হতে পারবে না! আবুধাবি দূতাবাসের লোকবল ও সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নানা জটিলতায় এনআইডি কার্যক্রম চালু করা যায়নি। ওয়েজ আর্নার বন্ড কেনা থেকে শুরু করে দেশের সব কাজেই আমরা যেন এনআইডির বদলে পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারি সে আবেদন জানাই।”

প্রণোদনা ২.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে চার হতে পাঁচ শতাংশ করা, প্রবাসীদের পৃথক পেনশন স্কিম এর আওতায় আনা ও জনতা ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় শুক্রবার বিশেষ ব্যবস্থায় সান্ধ্যকালীন রেমিট্যান্স সেবা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আশিষ বড়ুয়া বলেন, “ব্ল কলার শ্রমজীবীদের জন্য লেবার ক্যাম্পগুলোয় কালেকশান বুথ স্থাপন ও তাদের বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে হবে।”

একইদিন সন্ধ্যায় সচিব আহমেদ মুনিরুস সালেহীন তার প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নিয়ে সো মুসাফফাহ শিল্প এলাকার একটি বাংলাদেশি শ্রমিকপল্লীতে যান এবং তাদের সঙ্গে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণে সমস্যা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় দূতাবাসের মিশন উপপ্রধান মিজানুর রহমান, শ্রম কাউন্সেলর আবদুল আলিম মিয়া ও শ্রম সচিব লুতফুন নাহার নাজিমও উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ, আড্ডা, আনন্দ বেদনার গল্প, দেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সঙ্গে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!  
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক