Published : 09 Sep 2024, 10:22 PM
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় নির্মাণাধীন একটি স্কুল ভবনের ছাদ ধসে দুই বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও এক পাকিস্তানি এবং ২ আরব।
নিহত দুই বাংলাদেশির একজন হলেন আবদুস সামাদ (৪৩), পিতা মোহাম্মদ রফিক, বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায়। অন্যজন হলেন ফরিদ হোসেন ইমেল (৩১), পিতা বেলাল হোসেন, বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাটখিলে।
রোববার বিকেলে শারজার কালবা শহরে ওই সরকারি স্কুলের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান তাদের প্রতিবেশী আরেক বাংলাদেশি মোহাম্মদ হাছান মুরাদ।
মুরাদ জানান, নিহত দুজনই ফুজাইরার আল হিল সানাইয়া এলাকায় থাকতেন। সামাদ ১৫ বছর ধরে এবং ইমেল ৫ বছর ধরে আমিরাতে আছেন।
তারা পেশায় ছিলেন ওয়েল্ডিং টেকনিশিয়ান। সামাদ ফুজাইরার আল জাইদি ওয়েল্ডিং ওয়ার্কস এবং ইমেল আল জাহান ওয়েল্ডিং ওয়ার্কস কোম্পানিতে কাজ করতেন।
স্থানীয় ইংরেজি দৈনিক খালিজ টাইমস ও শারজা পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনার পর পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স ও ক্রাইম সিন টিম হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু দুর্ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটে। বাকি তিনজনকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে রাতে তাদের মধ্যে এক পাকিস্তানি মারা যান। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে দেখছে।
বাংলাদেশ সমিতি ফুজাইরার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল হক বলেন, “নিহত সামাদের আসছে ২২ সেপ্টেম্বর দেশে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি বিমানের টিকিট কেটে রেখেছিলেন। কিন্তু এখন তার বদলে তার নিথর লাশ যাবে দেশে, যেখানে তার এক মেয়ে,এক শিশুপুত্র ও স্ত্রী রয়েছেন। অন্যদিকে ইমেলের ঘরে অসুস্থ শিশুপুত্র ও স্ত্রী আছেন।”
নিহত দুজনই পরিবারের ‘একমাত্র উপার্জনক্ষম’ ব্যক্তি ছিলেন বলে জানান প্রবাসীরা। তাদের লাশ বর্তমানে শারজার কালবা হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাইয়ের শ্রম কাউন্সেলর আবদুস সালামের সঙ্গে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ঘটনাটি সংবাদ পড়ে জেনেছি, কিন্তু তাতে বলা আছে নিহতরা এশিয়ান। নিহতরা বাংলাদেশি কিনা নিশ্চিত হওয়ার পর এ ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো। নিহতদের স্বদেশে নেওয়ার ব্যাপারে কেউ সহযোগিতার জন্য এলে দুবাই কনস্যুলেট সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।”