Published : 29 Jul 2025, 06:15 PM
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে বন্দুকধারীর হামলায় বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় সেখানকার প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত বাংলাদেশির নাম দিদারুল ইসলাম। তিনি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বাসিন্দা। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কাজ করে আসছিলেন।
তিনি নিউ ইয়র্কে মা-বাবা, দুই ছেলে ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের পর দিদারুলের বাসায় ছুটে যান নিউ ইয়র্কের অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। তারা দিদারুলের স্বজনদের শোক ও সমবেদনা জানান।
দিদারুলের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অফিসার অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। তারা দিদারুলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট হাসানুজ্জামান হাসান, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দীলিপ নাথ এবং ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীও বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
এদিকে নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র পদে প্রথম মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী জোহরান মামদানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, তিনি যখন পুলিশে যোগদান করেন, তখন তার মা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কেন এত ঝুঁকিপূর্ণ পেশাকে বেছে নিলেন। তিনি (দিদার) তাকে বলেছিলেন, এটি তার পরিবারের জন্য একটি গৌরবের উত্তরাধিকার হিসেবে বিরাজ করবে অনন্তকাল। তিনি সেটি করে গেলেন। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।”
দিদারুলের জানাজা ও দাফনের সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
সোমবার এক অস্ত্রধারী ম্যানহটনের একটি ভবনে ঢুকে দিদারুলসহ চারজনকে গুলি চালিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করে।
নিউ ইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস সোমবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, দিদারুল ইসলাম বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে এসে নিউ ইয়র্কে থিতু হয়েছিলেন । তিনি তার বাবা-মার একমাত্র সন্তান।
ঘটনার পর দিদারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, “আমরা যাদের সঙ্গেই কথা বলেছি, তারা সবাই বলেছেন, তিনি (দিদার) ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ, যিনি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করতেন এবং চেষ্টা করতেন খোদাভক্ত একজন মানুষের মত জীবনযাপন করতে।”
আর পুলিশ কমিশনার জেসিকা এস টিশ বলেছেন, “যা করার কথা, তিনি তাই করছিলেন। নিজের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন, চূড়ান্ত আত্মত্যাগ করেছেন। ঠান্ডা মাথায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তার পরনে ছিল সেই পোশাক, যা শহরের প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিনিধিত্ব করছিল। যেভাবে তিনি জীবন কাটিয়েছেন, সেভাবেই মৃত্যুবরণ করেছেন—একজন নায়ক হিসেবে।”