Published : 05 Aug 2026, 12:57 AM
ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে গত দশদিনে ‘আত্মহত্যা’, দুর্ঘটনাসহ স্ট্রোক করে অন্তত ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাই কমিশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশটিতে বসবাসরত অন্য বাংলাদেশিরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর কারণ স্ট্রোক বা হৃদরোগ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে যে আটজন মারা গেছেন, তাদের অধিকাংশেরই বয়স ২১-৪৫ বছরের মধ্যে। মালদ্বীপে অভিবাসন ব্যয়ের তুলনায় কম আয়ের কারণে মানসিক চাপ ও দীর্ঘদিন স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে একাকিত্বই প্রবাসী কর্মীদের হৃদরোগের প্রধান কারণ।
হাই কমিশনের তথ্য বলছে, গত ২৫ জুলাই প্রবাসী বাংলাদেশি ২৩ বছর বয়সি রবিউল ইসলাম রওশন এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
নিহতের স্ত্রী আনজু মনোয়ারা আঁখি বলেন, জীবিকার তাগিদে মাত্র সাত মাস আগে রবিউল মালদ্বীপে যান। ২৫ জুলাই কর্মস্থলে এক দুর্ঘটনায় মারা যান তার স্বামী। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১ নং বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে। রবিউলের বাবার নাম মনির উদ্দিন।
দ্বিতীয়জন ৪৫ বছর বয়সী হুমায়ুন কবির। তার স্ত্রী কুলসুম বলেন, ১৯ বছর ধরে মালদ্বীপের একটি রিসোর্টে বৈধভাবে কর্মরত ছিলেন তার স্বামী। গত ২৭ জুলাই হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান হুমায়ুন। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সোনারগঞ্জ গ্রামে। হুমায়ুনের বাবার নাম আলী হোসাইন।
তৃতীয়জন ২১ বছর বয়সী সোলাইমান মাতব্বর। তার ভগ্নীপতি মো. আলীর ভাষ্য, “ভাগ্য বদলের আসায় দেড় বছর আগে সোলায়মান মালদ্বীপে এসেছিলেন। গত ১ অগাস্ট কর্মস্থলে ভুলবশত সোলায়মান তারপিন পান করে ফেলেন। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সোলায়মানের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার বহেরাতলা উপজেলার শিবচর ইউনিয়নে। তার বাবার নাম সেন্টু মাতব্বর।”
মারা যাওয়া চতুর্থ বাংলাদেশি ৪৪ বছর বয়সী সায়েদ মোল্লা। তার মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার বলছেন, সায়েদ মোল্লা ২০ বছর ধরে মালদ্বীপে বৈধভাবে কর্মরত ছিলেন। গত ১ অগাস্ট নিজ বাসায় স্ট্রোক করে মারা যান তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ ইউনিয়নে। সায়েদ মোল্লার বাবার নাম কালাই মোল্লা।
পঞ্চমজন ৩৭ বছর বয়সী বদিউর রহমান। তার নিকট আত্মীয় আনোয়ার হোসেনের তথ্য মতে, ১০ বছর ধরে বৈধভাবে মালদ্বীপের একটি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন বদিউর। ১ অগাস্ট নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। বর্তমানে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তাধীন রয়েছে। বদিউরের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলা ভাঙ্গা উপজেলার শরীফাবাদ গ্রামে। তার বাবার নাম কাশেম মাতব্বর।
ষষ্ঠজন ৪৫ বছর বয়সী মো. শেখ ফরিদ। তার নিকট আত্মীয় মালদ্বীপ প্রবাসী মো. বাপ্পির তথ্য মতে, শেখ ফরিদ দুই বছর আগে মালদ্বীপে যান। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। গত ৩০ জুলাই বিকেলে হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান তিনি। শেখ ফরিদের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের, হাজীপুর গ্রামে। বাবার নাম নশা মিয়া।
সপ্তমজন ৪৭ বছর বয়সী মকবুল মিয়া। তার স্ত্রী রহিমা আক্তার বলেন, “মকবুল মিয়া ২০ বছর ধরে মালদ্বীপের বিভিন্ন কোম্পানিতে বৈধভাবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ জুলাই স্ট্রোক করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার আউটবাগ গ্রামে। মকবুলের বাবার নাম জাফর মিয়া।”
অষ্টমজন ৭০ বছর বয়সী দেলওয়ারা নবি। হাই কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অগাস্ট রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। দেলওয়ারা নবি মালদ্বীপের থ্রিটপ হাসপাতালের অজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. নবির স্ত্রী। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার নতুন বাজার, কলেজ রোড এলাকায়।
এ বিষয়ে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছে, মৃত বাংলাদেশিদের বিষয়ে তারা অবগত। ইতিমধ্যে হুমায়ুন কবির এবং সায়েদ মোল্লার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মালদ্বীপের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মরদেহ দেশে পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।