Published : 28 Apr 2026, 03:23 PM
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী ‘টেকনিক্যাল টেক্সটাইল’ এবং ‘টেক্স-প্রসেস’ মেলায় নজর কেড়েছে বাংলাদেশ।
২১ থেকে ২৪ এপ্রিল চার দিনব্যাপী ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের মেসে প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত এ মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। তবে উচ্চমূল্যের কারিগরি বস্ত্র বা টেকনিক্যাল টেক্সটাইল খাতে দেশের সক্ষমতা ও বৈশ্বিক সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
এবারের মেলায় কোনো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই নিজস্ব উদ্যোগে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের তিনটি প্রতিষ্ঠান- ইকোপ্যাক লিমিটেড, এম অ্যান্ড এ কম্পোজিট লিমিটেড এবং টিম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড।
বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতার মাঝে এই প্রতিষ্ঠানগুলো টেকনিক্যাল টেক্সটাইলে বাংলাদেশের দক্ষতা ও মান আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক এই প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এমন অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের রপ্তানি খাতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মেলায় বাংলাদেশি স্টলগুলো পরিদর্শন করেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী। তিনি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের গুণগত মানের প্রশংসা করেন।
কাউন্সেলর জানান, বিশ্ববাজারে কারিগরি বস্ত্রের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে এই মেলায় বড় পরিসরে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বিশ্বজুড়ে টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এখন আর শুধু পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি প্রতিরক্ষা, চিকিৎসা, অটোমোবাইল, কৃষি ও নির্মাণ খাতের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এই খাতে চীন শীর্ষে থাকলেও বাংলাদেশের বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও দক্ষ শ্রমশক্তি এই নতুন বাজার দখলের ‘হাতিয়ার’ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য হিসেবে প্রতিরক্ষামূলক পোশাক এবং মেডিকেল টেক্সটাইলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
১১২টি দেশের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রদর্শকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই মেলায় এবার প্রাকৃতিক তন্তু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা এবং টেকসই উপকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মেলায় আসা ৯৫ শতাংশ দর্শনার্থী তাদের ‘সন্তুষ্টি’ প্রকাশ করেছে বলে একটি জরিপে উঠে এসেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যদি টেকনিক্যাল টেক্সটাইল খাতে নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধি করে এবং গবেষণা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ায়, তবে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ি কেবল প্রচলিত পোশাকের ওপর নির্ভর না থেকে আরও বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ হবে।