নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা: গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ
নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে একটি রেস্টুরেন্টে গত ২২ আগস্ট রাতে গুলি করে হত্যা করা হয় বাংলাদেশি ইউসুফ রাজুকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা ও আরেকজনকে আহত করার মামলায় গ্রেপ্তার দেশটির এক নাগরিকের বিরুদ্ধে আদালতে ১১ ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।
জেসাস অ্যাকস্তা নামে ওই তরুণকে স্থানীয় সময় সোমবার ব্রুকলিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি দিনিন রিভিয়েজ্জোর এজলাসে হাজির করা হয়। জেসাসের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয় তার মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ছিনতাই, অস্ত্র বহন এবং ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের ৮৪২ রকোওয়ে এভিনিউতে অবস্থিত বাংলাদেশি মালিকানাধীন ‘আমেরিকান বেস্ট উইঙ্গস অ্যান্ড পিজ্জা’ রেস্টুরেন্টে গত ২২ আগস্ট রাতে ক্যাশ কাউন্টারে কর্মরত মোহাম্মদ ইউসুফ রাজুর বুকে গুলি করেন জেসাস। এ সময় ইউসুফের পাশেই কর্মরত মো. রাসেলের পায়ে গুলি করে ক্যাশ কাউন্টার থেকে নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি।
মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে ব্রুকলিন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি এরিক গঞ্জালেজ সোমবার বলেন, “অভিযুক্ত দুর্বৃত্তকে ব্রঙ্কসের একটি পার্ক থেকে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেসাস অ্যাকস্তা ব্রঙ্কসেরই বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও হত্যার আরও অভিযোগ রয়েছে।
“নিহত ইউসুফের স্ত্রী এবং দুটি শিশু সন্তান রয়েছে বাংলাদেশে। তাদের ভরন-পোষণের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন ইউসুফ। গুলিবিদ্ধ রাজুকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
স্থানীয় বাঙালিরা বলছেন, নিহত ইউসুফ রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগরে। প্রায় তিন বছর আগে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র এসেছিলেন তিনি। এ বাবদ দালালকে দিয়েছিলেন ৩০ লাখ টাকা। পরে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। আহত রাসেলের বাড়িও নোয়াখালীতে।
এদিকে সোমবার জানাজা শেষে ইউসুফ রাজুর লাশ বাংলাদেশে পাঠিয়েছে নোয়াখালী সোসাইটি। এ সময় তার পরিবারের জন্যে সহায়তা হিসেবে কিছু ডলার পাঠানো হয় বলে তথ্য দেন সোসাইটির কর্মকর্তারা।
