সমালোচনার সঙ্গে প্রশংসাও করুন: কাদের

সংবাদ মাধ্যমের প্রতি ক্ষমতাসীনদের অনুরোধ, ভুল বড় করে অর্জন খাটো করে দেখাবেন না।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Nov 2022, 06:52 PM
Updated : 16 Nov 2022, 06:52 PM

সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি উন্নয়ন, অর্জন ও বিশ্ব সংস্থাগুলোর প্রশংসাও সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

গণমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা আপনাদের কাছে আমাদের ডিউটা চাই।

“আমরা চাই পূর্ণিমার আলোয় যেটা ঝলমল সেটাকে আলো হিসেবে দেখুন। অমাবস্যার অন্ধকারকে আপনি যদি আলো ভাবেন, সেটা তো আলো নয়। আমরা এই কথাটাই বলছি।”

বুধবার রাতে ঢাকা ক্লাবে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদও বক্তব্য রাখেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমরা বেশি চাই না। আমরা এটা বলি না যে বিরোধী দলের কভারেজ দেবেন না। আমরা শক্তিশালী বিরোধী দল চাই। কারণ গণতন্ত্র তো এক চাকার সাইকেল না।”

চলমান বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে দেশের মানুষকে ভালো রাখতে শেখ হাসিনার সরকারের ‘আপ্রাণ’ চেষ্টার কথা বলেন তিনি। ইউরোপ-আমেরিকার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “ব্রিটেনে কস্ট অব লিভিং এত বেড়ে গেছে যে ৪০ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ব্রিটেনের জনগণ অ্যাকশন চায়, তারা সরকারের পতন চায়নি। আমেরিকায়ও একই অবস্থা। সেখানে বাইডেনের পদত্যাগ তো কেউ দাবি করে না।

“একটা সংকট সৃষ্টি হয়েছে, আমরা তার মূল্য দিচ্ছি। আমাদের অবস্থান যুদ্ধের বিরুদ্ধে, নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে। আমরা এর ভুক্তভোগী।”

প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, “যাদের দলে গণতন্ত্র নেই, তারা দেশে গণতন্ত্র আনবে কী করে? তাদের চেতনায় গণতন্ত্র থাকলে ঘরে গণতন্ত্র থাকত। আমাদের ভুল-ত্রুটি ধরতে পারেন, তবে এদেশে আমরাই একমাত্র দল যারা গণতন্ত্রের চর্চা করি।

“ফখরুল সাহেবের কি মনে আছে, তাদের কবে কাউন্সিল হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের দুটো হয়ে গেছে। তাকে একটু জিজ্ঞাসা করুন, সম্মেলনটা কবে হয়েছে? কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভা কবে হয়েছে। লো মেরিডিয়ানে জাম্বু কমিটির একটা মিটিং বোধহয় হয়েছিল, তা মানুষ ভুলে গেছে।”

বিএনপির কর্মসূচিতে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না এবং তার পাল্টায় আওয়ামী লীগ কোনো কর্মসূচিও দিচ্ছে না বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।

“বিএনপি আন্দোলন করুক। আওয়ামী লীগকে নেত্রী (শেখ হাসিনা) বলে দিয়েছেন, তোমরা বাধা দেবে না। আমরা কাউন্টার করব না। আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সম্মেলন করছে। আমরা কাউন্টার প্রোগ্রাম করছি না। আমরা জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে আমাদের উপজেলা পর্যন্ত কাউন্সিল করছি।”

সরকারে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তার সঙ্গে বিএনপি আমলের তুলনাও করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, “একটা দল এতদিন ক্ষমতায় ছিল। কী দেখাবে তারা? উন্নয়নের একটা দৃশ্যমান কিছু তারা কি জনগণকে দেখাতে পারবে। আজকে পদ্মা সেতু হয়েছে। সামনে মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, ঢাকা থেকে এলেঙ্গা ৬ লেন রাস্তা প্রস্তুত হয়ে আছে। আরও অনেক কাজ প্রস্তুত হচ্ছে।”

বিএনপির শাসনামলে জঙ্গিবাদের উত্থানের কথাও তোলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “বাংলা ভাই, শায়খ আবদুর রহমান কাদের সৃষ্টি, আপনারা ভুলে গেছেন। প্রকাশ্যে মিছিল করেছে অস্ত্র নিয়ে। আমরা এদের বিরুদ্ধে কথা বলি। এদের বিরুদ্ধে আমরা সরব। এটা আওয়ামী লীগের রাজনীতি।”

এ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, “কৌশলগত কারণে অনেক ধরনের ঐক্য-আঁতাত এদেশে হয়। সেখানে নির্বাচনী রাজনীতির খেলা। আমাদের বিরুদ্ধে একটা জোট হচ্ছে। আমাদেরও এখানে একটা জোট করতে হবে। এসব আছে, এখন আপনি যদি বলেন একেবারে পোলারাইজড হয়ে যাও; তাহলে তো চলতে পারবো না। তাহলে ৯৬ তে আমরা জয়ী হতাম না।”

গণমাধ্যমকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “ডিজিটাল যে অ্যাক্ট হল, আমি কিন্তু সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলাম, সরকারের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের নামে চট করে মামলা করা, এটা উচিৎ না।”

সভায় তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, “গণমাধ্যম সমাজকে সঠিক চিন্তা করতে সহায়তা করে, গণমাধ্যম সমাজকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে পারে। আবার গণমাধ্যম যদি চেষ্টা করে, সমাজে ভুল বার্তাও দিতে পারে।

“পৃথিবীর কোনো সরকার দাবি করতে পারবে না শতভাগ নির্ভুল কাজ করেছে অথবা করবে। আমাদেরও ভুল-ত্রুটি আছে। সেই ভুল-ত্রুটিগুলোকে যদি অনেক বড় করে দেখানো হয়, অর্জনগুলোকে যদি ছোট করে দেখানো হয়; তাহলে সমাজে সঠিক চিত্র প্রস্ফুটিত হয় না। আমরা গণমাধ্যমের সহায়তা চাই।”

তিনি বলেন, “আমাদের ভুল-ত্রুটি অবশ্যই তুলে ধরবেন, একই সাথে এই যে দেশটা বদলে গেল, বিশ্বব্যাপী প্রশংসা বাংলাদেশের জন্য... বিশ্ব ব্যাংক প্রশংসা করে, জাতিসংঘ প্রশংসা করে, সেটি বড় আকারে গণমাধ্যমে আসে না। আমরা এক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা চাই।”

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতা, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক