বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে আওয়ামী লীগের ভোট জয়ের উদযাপন

এ জনসভায় ভোটের বিজয় উদযাপন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Jan 2024, 05:51 PM
Updated : 9 Jan 2024, 05:51 PM

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে রাজধানীতে জনসভা করবে আওয়ামী লীগ, যা কার্যত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয় উৎসবে পরিণত হতে যাচ্ছে। 

বুধবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় জনসভায় সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

এবারের ভোটে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২২টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। একাদশ সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে পেছনে ফেলে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ৬২ জন; যাদের মধ্যে ৫৯ জন আওয়ামী লীগেরই নেতা। 

আর জাতীয় পার্টির আসন কমে অর্ধেকের চেয়ে বেশি কমে নেমেছে ১১টিতে। দুটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের শরিক দল জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি এবং একটিতে জয় পেয়েছে কল্যাণ পার্টি। একটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। 

ভোটের পরপরই বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পড়ায় এদিনের জনসভায় বিজয় উদযাপন করতে যাচ্ছে টানা চার মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাওয়া আওয়ামী লীগ। 

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ২৪ দিন পর পাকিস্তানে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিব। 

দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। 

সকাল ৮ টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পরে দলের নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। 

দুপুরে ২টা ৩০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। 

দিবসটি পালনের জন্য প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বিশ্ব জনমতের চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার। মুক্তির পর তিনি লন্ডন যান। সেখান থেকে ১০ জানুয়ারি দিল্লি হয়ে পৌঁছান ঢাকায়।

লাখো জনতা সেদিন তাদের প্রিয় নেতাকে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে খোলা ট্রাকে করে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) নিয়ে যায়।

বঙ্গবন্ধু সেখানে সদ্য স্বাধীন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। প্রায় কুড়ি মিনিট আবেগঘন বক্তৃতা দেন জাতির পিতা।

তিনি বলেছিলেন, “আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে। আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে। আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে।”

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনারা আটক করে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। ওই রাতেই বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর শুরু হয় বর্বর হামলা।

পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগ মুহূর্তে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান বঙ্গবন্ধু। তার ডাকে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তি সংগ্রামে।

নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।