নুরের সঙ্গে আঁতাত প্রশ্নে হাছানের জবাব, ‘রাজনৈতিক কৌতুক’
“নুর ও রেজা কিবরিয়ার যে বাহাস, এগুলো আমরা উপভোগ করছি। … রেজা কিবরিয়া ও নূরুল হক নুর কিছু কৌতুকের জন্ম দিয়েছেন।”
গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করছেন বলে পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া যে অভিযোগ এনেছেন, তা এবার উড়িয়ে দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
রেজা ও নুরের মধ্যে বাহাসকে ‘রাজনৈতিক কৌতুক’ আখ্যা দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেছেন, গণ অধিকার পরিষদে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তাদের জন্য ‘প্রচণ্ড অবমাননাকর’।
সোমবার সচিবালয়ে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ অ্যাট এ গ্লেন্স’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
নুর ও আওয়ামী লীগের গোপন যোগাযোগের বিষয়ে রেজা কিবরিয়া যে বক্তব্য রেখেছেন, তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “আমাদের দলের সঙ্গে নুরের কোনো যোগাযোগ নাই। নুরের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ তো নানা সময় নানাজন করেছেন।
“যে সমস্ত কারণে তাদের দলের (গণঅধিকার পরিষদ) ভাঙন, তবহিল তসরুফ, কারও সঙ্গে আঁতাত, বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তির সঙ্গে মেলামেশা, তাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ- এগুলো তাদের জন্যই প্রচণ্ড অবমাননাকর এবং তাদের এই যে বাহাস, এটি রাজনৈতিক কৌতুক ছাড়া অন্য কিছু নয়।”
কী বলেছিলেন রেজা
নুরপন্থিরা সাধারণ সভা করে রেজা কিবরিয়াকে তার পদ থেকে অপসারণ করেছেন গত সপ্তাহে। রোববার সংবাদ সম্মেলনে এসে এর প্রতিক্রিয়া জানান রেজা। এ সময় তিনি নুরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনেন। একটি অভিযোগ ছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘গোপন যোগাযোগের’।
নুর আসলে ‘আওয়ামী লীগের লোক’ দাবি করে রেজা বলেন, “আওয়ামী লীগের দুর্নীতি নিয়ে যখন জোর গলায় কিছু বলে … আমি মনে করি, আওয়ামী লীগের আপত্তি করা উচিৎ। খেয়াল করবেন, তারা চুপ আছে। অর্থাৎ সে তাদেরই লোক।”
গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, ১৪ দলের শরিক রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে দেখা করেছেন দাবি করে রেজা বলেন, “সে মনে হয় ওদের মত হতে চায়। মন্ত্রী হবে, কিছু টাকা-পয়সা বানাবে। এটাতে সে সন্তুষ্ট।”
সংবাদ সম্মেলনে রেজার পাশে ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আহমেদ আফসারী। তাকে সাক্ষী রেখে রেজা বলেন, “আফসারীকে সে (নুর) বলেছেন, এই নির্বাচনে গেলে কেমন হয়? সরকার দুই কোটি টাকা দেবে নির্বাচনের জন্যে। ওকে (আফসারী) এক কোটি টাকা দেবে।”
একই দিন পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে আসেন নুর। তিনি তার দলের জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণা দেন। তবে রেজার ওই অভিযোগের জবাব দেননি।
পরে তিনি যাকে দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করেছেন, সেই রাশেদ খাঁন বলেন, “উনি (রেজা কিবরিয়া) যে অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ও জাসদের হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে আমাদের সদস্য সচিবের বৈঠক হয়েছে– ওই রকম কোনো মিটিং হয়নি।”
‘রেজা-নুরের পাল্টাপাল্টি উপভোগ করছি’
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “নুর ও রেজা কিবরিয়ার যে বাহাস, এগুলো আমরা উপভোগ করছি। …রেজা কিবরিয়া ও নূরুল হক নুর কিছু কৌতুকের জন্ম দিয়েছেন, তাদের কোনো জনভিত্তি নেই। তারা শুধু টেলিভিশনে আর নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত। জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্রব নাই।”
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার কথিত সদস্য মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে নুরের বৈঠক নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সে প্রসঙ্গও উঠে আসে হাছানের বক্তব্যে।
তিনি বলেন, “নুরের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন যে, তিনি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টের সঙ্গে অন্তত তিনবার বৈঠক করেছেন। সেটির কোনো ইফেকটিভ প্রতিউত্তর নুরের কাছ থেকে আসেনি।”
‘সংলাপ নিয়ে প্রশ্নই আসে না’
বিএনপির সঙ্গে সরকার সংলাপে বসবে কি না এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সংলাপের প্রশ্নই আসে না। আমরা মনে করি বিএনপি দেশে একটি গণ্ডগোল পাকাতে চায়, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।“
অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। সেই সরকারের আকার কী হবে সেটি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার, তিনিই এটি ঠিক করবেন।”
নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির প্রতিনিধি রাখা হতে পারে কিনা, এ প্রশ্নে হাছান বলেন, “বিএনপি তো সংসদে নেই, যদি সংসদে থাকত হয়তোবা সেক্ষেত্রে সুযোগ থাকত, যদিও এটি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তারা তো সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছে এবং সংবিধান অনুযায়ী সেটি সম্ভবপর নয়।”
‘বাংলাদেশ অ্যাট এ গ্লেন্স’ কী নিয়ে
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স ম গোলাম কিবরিয়া জানান, এই বইয়ে দেশের অবকাঠামোগত বিষয়, শিল্প, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
“সরকারে বড় বড় অর্জনগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি বইটি বিদেশে বাংলাদেশকে সংক্ষেপে তুলে ধরার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করবে”, বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী জানান, “আমাদের দেশে যে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত আছে তা অনেকেই জানে না। পর্যটন ও ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য দেশের ইমেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সরকার দেশের ইমেজ বাড়াতে নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছে।”
