Published : 17 Aug 2023, 08:07 PM
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করে আসা বিএনপির নেতাদের পাকিস্তানে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেছেন, “আমি বিএনপি নেতাদের বলি, পৃথিবীতে এখন একটা দেশ আছে, সেই দেশে তত্ত্বাবধায়ক আছে। আমি ফখরুল সাহেবকে বলি, দলবল নিয়ে পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে তত্ত্বাবধায়ক পাবেন। আর দুনিয়ার কোথাও তত্ত্বাবধায়কের হসিদ নাই।”
দেশজুড়ে জেএমবির বোমা হামলার বার্ষিকীতে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রতিবাদে একথা বলেন কাদের।
পাকিস্তানে নতুন জাতীয় নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকারের প্রধানমন্ত্রীও মনোনীত হয়েছে।
বাংলাদেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এক সময় থাকলেও ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধনে তা বিলুপ্ত হয়।
বিএনপি নির্বাচনকালীন সেই সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছে। আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে করতে আন্দোলনে রয়েছে দলটি।
তবে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এই ভূত মাথা থেকে নামান, নির্বাচনে আসুন। নইলে আমও যাবে, ছালাও যাবে।”
আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে বিএনপির আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার শিকড় বাংলার মাটির অনেক গভীরে। আল্লাহ যাকে রাখবে, বান্দা তাকে মারতে পারে না। শেখ হাসিনার উপর আল্লাহ রহমত আছে। এই দেশের মানুষের দোয়া আছে।”
বিএনপির আন্দোলনের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “খালেদা জিয়ার জন্য ৫০০ লোকের একটা মিছিল করতে পারেন নাই, এখন চোখের পানি ফেলছেন।”
বিএনপির অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এক সময় তার বাবা (জিয়াউর রহমান) অহংকারে বলত, ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’। যেমন পিতা, তেমন সন্তান। তার ছেলেও (তারেক রহমান) বলে, ‘আন্দোলন করো, টাকার অভাব হবে না’। কোথা থেকে আসে এই টাকা?”
একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টায় বিএনপি নেতারা জড়িত থাকলেও এখন তারা উল্টো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, “মির্জা ফখরুল যখন বলে, আওয়ামী লীগ নাকি জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করছে! দিনের আলোতে সবার চোখের সামনে, চক্ষুলজ্জা যাদের নেই, তারা এই কথা বলতে পারে।
“ফখরুল সাহেব ভুলে গেছেন, পুরো বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন। রক্তে ভেসে গেছে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি। সে রক্ত কাদের হাতে? সে রক্ত বিএনপির অনুসারীদের হাতে।”
বিএনপি আমলে নিজের নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরে কাদের বলেন, “আড়াই বছর আমি জেলে, জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায়। খালেদা জিয়ার সময় ১০ দিনও আমি ঘরে থাকতে পারিনি। তখন আমি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি বক্তব্য রাখেন।