১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বঙ্গবন্ধুকে পুরোপুরি বর্ণনা করা সম্ভব নয়: মতিয়া চৌধুরী

“শেখ হাসিনা যখন কাঁদেন, এটি কান্না নাকি রক্তাশ্রু তা পার্থক্য করা কঠিন,” বলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুকে পুরোপুরি বর্ণনা করা সম্ভব নয়: মতিয়া চৌধুরী

শোক দিবসের আলোচনায় মতিয়া চৌধুরী। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Aug 2023, 11:06 PM

Updated : 29 Aug 2023, 11:06 PM

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যত লেখালেখিই হোক, তাতে জাতির পিতাকে পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব নয় বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের উপনেতা মতিয়া চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, “আকাশের ছায়া সমুদ্রে পড়লে মনে হয়- সমুদ্র আকাশকে ধারণ করেছে৷ কিন্তু সমুদ্র আকাশের অতি ক্ষুদ্রাংশই ধারণ করে৷ বঙ্গবন্ধুর লেখা, বই, প্রবন্ধ যত কিছুই করা হোক, তাতে তার খণ্ডিত অংশই আসবে। তাকে পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব নয়।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বললে রাত দিন ফুরাবে, কথা শেষ হবে না। সবাই মিলে যদি চিত্রিত করি, তুলি ফুরিয়ে যাবে। তাকে পুরো তুলে ধরা যাবে, সেই শিল্পী বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। আমরা একেকদিন একেকভাবে তাকে চিত্রিত করি।”

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের পরের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, “আজকে বঙ্গবন্ধু আমাদের ভেতরে নাই। আমার মনে আছে, ১৫ অগাস্টের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কিছুই করতে পারিনি। সারা বাংলাদেশই কিছু করতে পারেনি। এক-দুই বছর পরে আমরা পূর্ব নির্ধারিত প্রোগ্রাম করি, নীরবে হেঁটে কোনো স্লোগান না দিয়ে ৩২ নম্বর পর্যন্ত যাব৷ কলাবাগানে যেতে পুলিশ আমাদের ধাক্কা দিয়ে ছত্রখান করে দেয়। এ কথাগুলো বারবার মনে পড়ে।”

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া বলেন, “আজকে যারা সবকিছু তৈরি পেয়েছেন- তাদের ঈর্ষা করি না, কিন্তু এ কথাগুলো দিয়ে তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই- পথ কিন্তু কঠিন, কণ্টকাকীর্ণ। আমরা ক্ষমতায় থাকায় অনেকের কাছে এটি ফুল বিছানো মনে হতে পারে৷ শেখ হাসিনার পথ যে কী কণ্টকাকীর্ণ, রক্তে ভেজা, কী যে কান্না...উনি যখন কাঁদেন, এটি কান্না নাকি রক্তাশ্রু তা পার্থক্য করা কঠিন ।”

নতুন প্রজন্মকে নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যে কাজগুলো করতে পারিনি, সেগুলো আজকের প্রজন্ম করবে। শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত শুধু নয়, তিনি নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করে এ রাস্তা রচনা করেছেন, এ ধারা আমরা যেন অব্যাহত রাখতে পারি।”

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকীতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এ সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব সুভাষ সিংহ রায় । স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোল্লা মোহাম্মাদ আবু কাওছার।

Image

চিরচেনা বঙ্গবন্ধু শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা।

‘চির চেনা বঙ্গবন্ধু’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চির চেনা বঙ্গবন্ধু’ নামে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

স্মরণসভায় বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য শেখ কবির হোসেন।

তিনি বলেন, “একটা দেশের মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে কিভাবে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরি করা যায় তা শুধু বঙ্গবন্ধুকে দেখলে বুঝতে পারা যায়। …বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ একটি আরেকটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, “নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করার মাধ্যমেই তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবে। বঙ্গবন্ধু একটা জাতিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে গেছেন, পৃথিবীতে এর থেকে ভাল আর কিছু আছে বলে মনে হয় না”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ( শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমাদ বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যারা কাছ থেকে দেখেননি তারা বুঝতে পারবে না তিনি কত বড়মাপের মানুষ ছিলেন।

“বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমি মুজিব মামা বলে ডাকতাম। ছোট বেলায় তিনি আমার ডায়েরিতে ইংরেজিতে একটি লাইন লিখেছিলেন, যার অনুবাদ হল- ‘মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে আত্মত্যাগ করতে হয়’। আমার ডায়েরির এই লেখাটার মাধ্যমেই বুঝতে পারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ব্যক্তি হিসেবে কেমন ছিলেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক জিয়া রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আলোকচিত্রশিল্পী পাভেল রহমানও বক্তব্য রাখেন।