Published : 22 Dec 2023, 07:14 PM
আগামী ৭ জানুয়ারি যে সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে সেটিকে `পাতানো’ আখ্যা দিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ।
শুক্রবার বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘এক তরফা’ নির্বাচন বর্জনে গণসংযোগ ও মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান।
একই দাবিতে গণতন্ত্র মঞ্চ শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মালিবাগ অভিমুখে গণমিছিল করারও ঘোষণা দিয়েছে।
সমাবেশে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, “নিজেরা নিজেরা ১৫২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েছেন। এই ১৫২ জন প্রার্থীকে নাকি তারা আবার বিরোধী দলও বানাবেন- এরকম কথা শোনা যাচ্ছে। আমরা গণতন্ত্র মঞ্চসহ ৬৩টি দল নির্বাচন বর্জন করেছি। এই প্রহসনের নির্বাচন এদেশে হতে দেব না।
“সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনকে গ্রহণ করছে না। এই পাতানো নির্বাচনের খেলা বন্ধ করুন। আমরা জনগণকে ভোট বর্জন করার আহ্বান জানাচ্ছি। জাতীয় বেঈমান, বিশ্বাসঘাতক শাহজাহান ওমর গতকাল ঝালকাঠিতে বলেছে, এটা কিসের নির্বাচন? এটা একটা পাতানো নির্বাচন।”
বাবলু বলেন, “আজকে বাংলাদেশকে পরাশক্তির লীলাভূমিতে পরিণত করেছে এই সরকার। এই পাতানো ও প্রহসনের নির্বাচনকে সাপোর্ট করার জন্য ভারত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এসেছে। তারা কী বলেছে, রাশিয়া কী বলেছে, আপনারা সব পত্রপত্রিকায় দেখেছেন।
“আমি বিদেশি শক্তিদের বলব, বাংলাদেশকে নিয়ে আপনারা এই খেলা খেলবেন না। বাংলাদেশের মানুষ এই খেলা গ্রহণ করবে না।”
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের গত এক-দেড় বছরে অনেক বক্তৃতা দিয়েছেন। মানুষ ভেবেছিল, জাতীয় পার্টি বোধ হয় এবার বদলে যাচ্ছে।
“এই বোধ হয় সাবালক হচ্ছে। কয়েকদিন আগে চন্নু সাহেব বললেন, ‘আমরা সাবালক হয়েছি’। উনার নির্বাচনি এলাকা কিশোরগঞ্জে পোস্টার করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত মুজিবুল হক চুন্নুকে লাঙল মার্কায় ভোট দিন। এই হচ্ছে বিরোধী দল।
“জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বললেন, ‘ভিক্ষার সিট নিয়ে আমি রাজনীতি করি না’। দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ঘোষণা এল, ২৬টি আসনে উনাদের সমঝোতা হয়েছে। গণতন্ত্র মঞ্চসহ বিরোধী দলগুলো যদি নির্বাচনে যেত, তাহলে তাদেরকে ভিক্ষার সিট দেওয়া হত।”
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সাকি বলেন, “নির্বাচনে যেতে রাজি হলে নাকি এক রাতেই বিএনপির গ্রেপ্তার হওয়া ২০-২২ হাজার নেতাকর্মীকে ছেড়ে দিতেন। এই হচ্ছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র। আর ওই হচ্ছে আইন-আদালত বিচার। সেখানে জামিন দেওয়া হয়, যিনি এই ভিক্ষার সিট নিতে পারেন।”
বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “যে নির্বাচনের ফলাফল মানুষ জানে, সেই নির্বাচনের কী দরকার? জনগণের ২ হাজার কোটি টাকা অপচয়ের কোনো মানে হয় না। অনতিবিলম্বের এই তৎপরতা বন্ধ করুন।
“এই পাতানো নির্বাচন বন্ধ করুন। এখনও রাজনৈতিক সংকট সমাধানের সুযোগ আছে। বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করুন। এটা যদি না করেন, দেশব্যাপী মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটবে এবং এই সরকারকে অপমানজনকভাবে বিদায় নিতে জনগণ বাধ্য করবে।”
সমাবেশ শেষে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাহবাগ মোড় যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে মিছিলটি শাহবাগ মোড় ঘুরে ফের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার।