Published : 16 Oct 2025, 08:23 PM
গণতন্ত্র বিশ্বাস করলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ‘কোনো বিকল্প নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
বৃহস্পতিবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেছেন, “আমি যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিত্বে যদি বিশ্বাস করি, তাহলে আমাকে জনপ্রতিনিধি হয়ে আসতে হবে দেশ পরিচালনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার জন্য।
“ইয়েস, এটা ঠিক যে, যারা দেশ পরিচালনা করছেন, যারা রাজনীতিক হিসেবে কাজ করছেন, যারা জনগণের প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন। তারা নিশ্চয় তাদেরকে সঠিক উপদেশ দেবার জন্য পেশাজীবীদের নিয়োগ করবেন। তারা পলিসি অপসন দেবেন কিন্তু ফাইনাল ডিসিশন জনপ্রতিনিধির হাতে থাকতে হবে।”
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়।
মঈন খান বলেন, “বিগত ১৫ বছর শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের নীতি নেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট–যদি শিক্ষা ধ্বংস করা যায়, তবে জাতিকেও ধ্বংস করা যাবে। কারণ তখন মানুষ যুক্তি দিয়ে কথা বলতে পারবে না, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝবে না, প্রতিবাদও করতে পারবে না।
“এই ধবংসস্তূপ থেকে আমি জানি না বের হয়ে আসতে আমাদের কত সময় লাগবে। তবে এটা বলতে পারি, এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক করতে একমাত্র একটি ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, সরকার যাই কিছু করুক না কেন, রাজনীতিকরা যাই কিছু করুক না কেন, শিক্ষকরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে তারা একটি প্রত্যয় নেয় যে আমরা এই দেশের মানুষকে শিক্ষিত করে তুলব, আমার বিশ্বাস তাহলে সম্ভব।”
এক্ষেত্রে জামানির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “জার্মানিতে একসময় বলা হত, যদি আকাশে ঢিল ছোড়া হয় তাহলে সেই ঢিলটি হয় ঘোড়ার মাথায় পড়বে অথবা একজন পিএইচডি ডিগ্রিধারীর মাথায় পড়বে। কেন এই প্রবাদটি প্রচলন হয়েছিল?
“প্রচলন হয়েছিল এই কারণে যে জার্মানির মানুষ তারা একটি বিশ্বাসে আস্থা রেখেছিল, সেটি হচ্ছে তাদের লেখাপড়া করতে হবে।”
তিনি বলেন, “জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়ে মজার বিষয় ছিল তখনকার দিনে। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম ইউনিভার্সিটিতে, বিএ ডিগ্রি করা, মাস্টার্স ডিগ্রি করা বা পিএইচডি ডিগ্রি করার নির্দিষ্ট সময় সময় ছিল না।… দুই বছর, পাঁচ বছর, ১০ বছর, ১২ বছর, ১৫ বছর যে সময় লাগত, তারপরে তারা যথেষ্ট শিক্ষিত হয়ে একটা ডিগ্রি নেবার পরে…
“তাদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করা হত, তোমরা কী করবে? তখন তারা উত্তর দিত যে আমি শিক্ষক হব। এটাই ছিল তাদের জাতীয় দর্শন।”
‘শিক্ষকদের ওপরে লাঠিচার্জ হৃদয়বিদারক’
আবদুল মঈন খান বলেন, “হৃদয় বিদারক! একটি দেশের পুলিশ লাঠিচার্জ করে অথবা টিয়ার গ্যাস মেরে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে হবে এর চেয়ে কলঙ্কজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। আমি নিজে শিক্ষক, সেই হিসেবে আমি বলছি না, আমি শিক্ষার যে উদাহরণগুলো দিয়েছি, তার ভিত্তিতে বলেছি। হ্যাঁ, আমি একজন শিক্ষক, আমাকে অনেকে রাজনীতিক বলে… রাজনৈতিক পরীক্ষায় আমি পাস করতে পারিনি।
“কারণ দেশের গতানুগতিক রাজনীতির সঙ্গে আমি তাল মিলাতে পারি না। আমি নিজেকে শিক্ষক হিসেবে জানি এবং এখনো যেখানে পারি, শিক্ষকতা করি। এখনো লেকচার দিই, কিন্তু এই যে শিক্ষকদের অবমাননা, এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারে না। এটা কেনো হবে আজকে?”
তিনি বলেন, “সরকার শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা বাড়িয়েছে ৫০০ টাকা। তারা সেই ভাতাটা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা কি কোনো অপরাধ করেছে?
“৫০০ টাকা দিয়ে একজন শিক্ষক একটি বাড়ি ভাড়া করতে পারবে? আজকের এই বাংলাদেশের অর্থনীতির যে অবস্থা সেখানে, এটা কি কোনোদিন সম্ভব? কাজেই এখানে কী বলব? এখানে কী আলোচনা করব?”
এত সংস্কার কমিটি হল, শিক্ষা বিষয়ক সংস্কার কমিটি কেন হল না, সেই প্রশ্নে রাখেন মঈন খান।
তিনি বলেন, “প্রয়োজন নেই সংস্কারের? বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কী সর্বোচ্চ পর্যায় রেখে গেছে বিগত সরকার, যে এটার সংস্কারের প্রয়োজন নেই? এদেশে শিক্ষাকে কতটুকু গুরুত্ব দেয় সেটা তো আমরা সবাই বুঝতে পারছি। শিক্ষাকে অগ্রাধিকার না দিলে আমরা যতই শ্লোগান দিই না কেন, দেশ উন্নতিতে যেতে পারবে না।”
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।