Published : 19 Sep 2025, 08:21 PM
দেশে ‘উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক’ গোষ্ঠীর উত্থান ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
শুক্রবার বিকালে ঢাকায় দলের ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ সময় আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশে দক্ষিণপন্থী উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান। আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী দেশসমূহ আমাদের দেশের ওপরে আধিপত্য বিস্তারে আগ্রাসী ভূমিকা নিচ্ছে।
“গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু-অবাধ-গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন জরুরি হলেও কোনো কোনো মহল এই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। সরকারের কোনো কোনো উপদেষ্টা ও সরকারের সমর্থক বলে পরিচিত রাজনৈতিক দলসমূহের ভূমিকা যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”
বৈষম্যহীন ও মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আশু ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে শুরু ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলনে মিলিত হয়েছে সিপিবি।
ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় অস্থায়ী শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও লাল সালাম জানান নেতাকর্মীরা। এরপর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শুরু হয় উদ্বোধনী অধিবেশন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান আবু সাইদ।

জাতীয় সম্মেলনের উদ্দেশ্য ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক প্রিন্স বলেন, এবারের গণঅভ্যুত্থানে গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজের আকাঙ্ক্ষা আবারও সামনে এসেছে। এই বৈষম্যহীন সমাজ ও মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করে সর্বত্র গণতান্ত্রিকতার অবাধ ক্ষেত্র তৈরির জন্য দেশ ও বিদেশে কমিউনিস্টরা যুগ যুগ ধরে লড়াই করছে। শত শত শহীদের আত্মদানে এই লড়াই এগিয়ে চলছে।
“আমাদের দেশেও নীতিনিষ্ঠ অবস্থানে থেকে কমিউনিস্টরা এই লড়াই অগ্রসর করছে এবং সারা দেশে নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে কথা বলার পার্টি হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী হয়ে আছে। কংগ্রেসে আমরা আশু ও দীর্ঘমেয়াদী করণীয় সুনির্দিষ্ট করে এই লড়াইকে আরও বেগবান করার শপথ নেব।”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য দুর্বৃত্তায়িত অর্থনীতি-রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নীতিনিষ্ঠ বাম গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলা এবং বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সরকার গঠন এখনকার জরুরি কর্তব্য।
“দেশে সংস্কার নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হলেও জনজীবনের সংকট সমাধানসহ ব্যবস্থা বদলের জন্য মৌলিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। এসব বিষয়ে কংগ্রেসে আমরা আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট কর্তব্য নির্ধারণ করব।”
সিপিবি জানিয়েছে, এবারের কংগ্রেসে সারা দেশ থেকে ৫৫০ জন প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকসহ ৬ শতাধিক পার্টি সদস্য প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর তোপখানা রোডের বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-বিএমএ মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।