Published : 17 May 2026, 05:54 PM
বিগত সরকারের সময়ে শুধু হামের টিকা নয়, শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ‘ক্যাম্পেইনিং’ না হওয়ার কথাও বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি বলেছেন, সরকারের কাছে ‘সামান্য কিছু’ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল মজুদ আছে। কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় এক কোটি ক্যাপসুল হাতে আসবে।
রোববার দুপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখছিলেন।
ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গেল ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৬৩ দিনে সারাদেশে হাম ও এই রোগের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেক বছর দুইবার ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনিং করার কথা। গত বছরের প্রথমার্ধে একটা ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনিং হয়েছিল। তারপরে কোনো ক্যাম্পেইনিং হয় নাই এবং ভিটামিন এ নাই।
“সামান্য কিছু ভিটামিন এ আমাদের কাছে আছে, যেটা আমরা কিছু কিছু করে ভাগ করে দিচ্ছি…ভিটামিন-এ একেবারে অপ্রতুল।”
সরদার সাখাওয়াত বলেন, “আমরা যে টাকা দিয়েছি জুন মাসের ১০ তারিখের মধ্যে, ইউনিসেফ সেটা আমাদেরকে দেওয়ার কথা। চারদিন আগেও আমি কথা বলেছি, অনুরোধ করেছি যত দ্রুত মিজেলস ভ্যাকসিন দিতে। আগামী পাঁচ-সাত দিনের ভেতরে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ, এক কোটির বেশি ভিটামিন এ পেতে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ আমরা পুরোদমে ভিটামিন বাচ্চাদের ভিতরে দেওয়া শুরু করে দেব।”
মায়েদের পুষ্টি এবং শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর বিষয়ে সচেতনতার বিষয়ে চিকিৎসকদের গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “প্রথম বেবি জন্ম নেওয়ার পর যদি সে মায়ের কাছ থেকে পুষ্টি না পায়…এইসব রোগ মিউটেশন হবে, আরেক নামে আসবে। আবার কি হান্টা আসবে, কত কিছু আসবে শুনতেছি…একটা না একটা আমাদেরকে জর্জরিত করে ফেলবে, আমরা যদি এখন থেকে সজাগ দৃষ্টি না রাখি।”
জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে হাম ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা সপ্তাহ উদ্বোধন অনুষ্ঠান ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার করে ক্ষমতাসীন বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব।
হামে আক্রান্ত শিশুদের অপুষ্টির কারণ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি এই হামকে সামনে নিয়ে অনেকগুলি হাসপাতাল ঘুরেছি, মিজেলস আক্রান্ত বাচ্চাদের দেখতে গিয়েছি।”
ছোটবেলায় তার নিজের ও বড় ভাইয়ের হাম আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে সরদার সাখাওয়াত বলেন, তখন ওষুধ ছিল না। তারপরে দীর্ঘ সময় হাম নিয়ে চিন্তার করেননি। এবার ‘আল্লাহ চিন্তা করাচ্ছে’।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “ছয় মাস থেকে নয় মাস পর্যন্ত মায়ের ব্রেস্ট ফিডিং এ যেটা পায় ওইটা দিয়ে ‘ইমিউনিটি’ চলে। তাহলে এখন ছয় মাস থেকে নয় মাসের এত বাচ্চা, ‘ম্যাক্সিমাম’ বাচ্চা কেন হাম হচ্ছে? যেটা আমি আলাপ এবং অভিজ্ঞতা থেকে পাচ্ছি, ‘নিউট্রিশনের’ অভাব। পুষ্টির অভাব এই হাম থেকে ম্যাক্সিমাম রোগী নিউমিনিয়াতে চলে যাচ্ছে।”
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
টিকার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “পরনির্ভরশীল ভ্যাকসিন, আজকে যদি বিদেশিরা না দেয়, একটা ভ্যাকসিন আমরা দিতে পারব না।”
বাংলাদেশের টিকা তৈরির সক্ষমতা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে সরদার সাখাওয়াত বলেন, “ইনশাআল্লাহ আমরা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি মুন্সিগঞ্জে আমাদের ভ্যাকসিন ইউনিটটা করার জন্য। সকল ভ্যাকসিন আমরা প্রডিউস করব আশা করি, ইনশাআল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি কয়েক বছরের মধ্যে। কিন্তু ওই সময় পর্যন্ত আমাদেরকে অন্যের উপর নির্ভর করতে হবে।”
ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ডা. সদস্য আবদুস সালাম, ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল।