Published : 13 May 2025, 08:13 PM
নির্বাচিত সরকার ছাড়া সংবিধান সংশোধনের সুযোগ নেই বলে দাবি করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপে দলটি বলেছে, সংস্কার প্রস্তাব নির্বাচিত সরকারের জন্য তৈরি করে রেখে দিয়ে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংলাপের সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এসব বিষয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “সংস্কারের যেই প্রস্তাবগুলোতে একমত হয়েছি বা হচ্ছি না এগুলোর দায়িত্ব কে নেবে? এগুলোর দায়িত্ব নেবে দেশের জনগণ।
“দেশের জনগণ মানে ১৮ কোটি মানুষকে তো আর স্টেডিয়ামে নিয়ে এসে মত নিতে পারবো না, সেই মত নেওয়ার পদ্ধতি হল-সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা গুটি কয়েকজন লোক একসাথে বসলাম আর সিদ্ধান্ত নিলাম, কালকেই নতুন একটা পদ্ধতিতে করে ফেলবো, এটা ভুল। এটা মনে করিয়ে দিয়ে বৈঠক শুরু করেছি।”
সিপিবি সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমাদের মূল ভিত্তি হচ্ছে একাত্তর। কিন্তু উনাদের প্রস্তাবনা দেখে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা যেন একাত্তরকে ২৪ দিয়ে রিপ্লেস করা হয়েছে। আমরা এটা যথাযথ না বলে মনে করছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকবে তেমনি অবশ্যই ২৪ এর আকাঙ্ক্ষাও থাকবে।”
সংবিধানের চার মুলনীতি অক্ষুণ্ন রাখার প্রস্তাব দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রিন্স বলেন, “৭২ এর সংবিধানে কতগুলো অসম্পূর্ণতা আছে এটাকে দুর করতে হবে, এটাকে পুনর্লিখন বা অন্য কিছু করার প্রয়োজন নেই। এই সংবিধানের যে চারটি মূল নীতি আছে এগুলো অক্ষুণ্ন রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
গণপরিষদের বিরোধিতা করে প্রিন্স বলে, “এগুলো করবেটা কে? নির্বাচিত সরকার। এগুলো লিখে দিন, গণভোট, এগুলো করতে হলে সংবিধান সংশোধন করে করতে হবে। তারা এত প্রস্তাবের মধ্যে লিখে দিতে পারেতো যে এগুলো করবে নির্বাচিত সংসদ।
“একমাত্র নির্বাচিত সংসদই সংবিধান সংশোধন করতে পারে। গণপরিষদ, এগুলো করার প্রয়োজন মনে করি না।
“এমন কোন বিতর্কিত বিষয় সামনে আনবেন না, যার কারণে নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।”
সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার বহু বিষয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবে নেই দাবি করে প্রিন্স বলেন, “আপনি স্প্রেডশিটে যত পয়েন্টগুলো দিয়েছেন এখানে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অনেক উপাদানই আছে। তবে টাকার খেলা বাদ দিয়ে, টাকার উপর নির্ভর করবে না, এই পয়েন্ট কেন আনলেন না?
“স্বাধীন নির্বাচন কমিশন হবে, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হবে না, এই পয়েন্টগুলো আনলেন না কেন?”
সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সংলাপ শেষ হয় বেলা আড়াইটায়।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় সংলাপে উপস্থিত ছিলেন ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ, সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ইফতেখারুজ্জামান, বিচারপতি এমদাদুল হক।
রুহিন হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে সংলাপে অংশ নেন সিপিবি নেতা মিহির ঘোষ, এ এন রাশেদা, ফজলুর রহমান, রাগিব আহসান মুন্না, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কাজী রুহুল আমিন, সাজেদুল হক রুবেল ও আবিদ হোসেন।