১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নেতাকর্মীদের রাজপথ না ছাড়ার নির্দেশ ইশরাকের

নগর ভবনের সামনে থেকে সরে মৎস্যভবন ও কাকরাইল এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন ইশরাক সমর্থকরা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 May 2025, 03:30 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:45 PM

যতক্ষণ ‘প্রয়োজন’, নেতাকর্মীদের ততক্ষণ রাজপথে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথের অপেক্ষায় থাকা বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।

বুধবার দুপুরে এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “নির্দেশ একটাই, যতক্ষণ দরকার রাজপথ ছেড়ে উঠে আসা যাবে না।”

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে গত ১৪ মে থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সমর্থকেরা। মঙ্গলবার তারা ঘোষণা দেন, বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানো না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

পাশাপাশি ডিএসসিসি এলাকার সব নাগরিক সেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি আসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের কাছ থেকে।

বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হওয়ায় বুধবার সকাল ১০টার পর নগর ভবনের সামনে থেকে চলে আসেন ইশরাক সমর্থকরা। তারপর তারা মৎস্যভবন ও কাকরাইল এলাকায় অবস্থান নেন।

সেই অবস্থান কর্মসূচির বিভিন্ন ভিডিও, খবর নিজের ফেসবুক পেইজে শেয়ার করছেন ইশরাক হোসেন। 

আরেক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “ঢাকাবাসীর অবস্থান কর্মসূচিতে জনজোয়ার । ডিএসসিসি মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি।”

ইশরাক সমর্থকদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে নগর ভবন কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের দাপ্তরিক কাজ হচ্ছে না। দুর্ভোগে পড়েছেন সেবা নিতে আসা লোকজন। 

স্থানীয় সরকার বিভাগের অফিস নগর ভবনে থাকায়, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও কার্যালয়ে আসতে পারছেন না।

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটির সবশেষ নির্বাচন হয়। তাতে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাককে পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র হন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস।

ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর গেল ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে।

এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাককে ডিএসসিসি মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তবে তার শপথ অনুষ্ঠান এখনও হয়নি। কয়েকটি ‘জটিলতার’ কথা বলে স্থানীয় সরকার বিভাগ এখনো শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেনি।

ইশরাককে শপথ না পড়ানোর দাবিতে এবং নির্বাচন কমিশনের গেজেট বাতিলের আদেশ চেয়ে একটি রিট মামলা হয়েছে হাই কোর্টে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশ হওয়ার কথা রয়েছে।