১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

১৫ অগাস্ট নিয়ে জাসদের সভা: ‘চিরশত্রুরা মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে’

“বঙ্গবন্ধুকে হত্যা শুধু জাতীয় ইতিহাসই নয়, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি কালো দিন,” বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2026, 12:02 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

দেশের ‘চিরশত্রুরা’ মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে বলে মনে করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) নেতারা। 

শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক আলোচনা সভায় তারা এ অভিমত তুলে ধরেন বলে দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। 

সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন— ১৫ অগাস্ট উপলক্ষে জাসদ কার্যালয়ের কর্নেল তাহের মিলনায়তনে এ সভা হয়। 

সভার পাশে রাখা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় দলটি। এক মিনিট নীরবতাও পালন করেন নেতাকর্মীরা।  

বক্তাদের উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ‘রেজিম চেইঞ্জ’ একই সূত্রে গাঁথা।”

তারা বলেন, “সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা শুধু জাতীয় ইতিহাসই নয়, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কালো দিন, কলঙ্কিত দিন, সবচেয়ে বড় বিয়োগান্তক ঘটনা।” 

জাসদ নেতারা বলেন, "১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ‘রেজিম চেইঞ্জ’ একই সূত্রে গাঁথা।

“বাংলাদেশের জন্মশত্রু, চিরশত্রুরা মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ে প্রতিশোধ নিচ্ছে, প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে।”

বক্তারা বলেন, “জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে জিয়াউর রহমানের সামরিক আদালতে দণ্ড দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে গঠিত আইসিটির বিচারে দণ্ড দেওয়া একই ধারাবাহিকতার অংশ।”

জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শফিউদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুজ্জামান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহিল কাইয়ূম, দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করে।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়।

এরপর ২০০৮ সালে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আদেশ বাতিল করে দেয় হাই কোর্ট। এরপর থেকে দিনটি জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি হিসেবে পালন করা হচ্ছিল।

কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০০৮ সালের হাই কোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে লিভ টু আপিল করে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর হাই কোর্টের রায় স্থগিত করে দেয় তখনকার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এতে ১৫ অগাস্টের জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল হয়ে যায়।