Published : 30 Jul 2025, 01:39 PM
জুলাই অভ্যুত্থানের বছরে আয় বেড়েছে জাতীয় পার্টির; যা এর আগের কয়েক বছরের তুলনায় বেশি। তবে আন্দোলনের বছরে খরচও বেড়েছে দলটির।
বুধবার জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের কাছে ২০২৪ পঞ্জিকা বছরের আর্থিক বিবরণী জমা দেয়।
সেই বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টির আয় হয়েছে ২ কেটি ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ টাকা; দলটি ব্যয় দেখিয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪ টাকা। দলের হিসাবে জমা আছে ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৪ টাকা।
নির্বাচন কমিশনে যাওয়া জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলে ছিলেন খলিলুর রহমান খলিল, মো. নুরুজ্জামান ও মাহমুদ আলম।
২০২৩ সালে জাতীয় পার্টি আয় দেখিয়েছিল ২ কোটি ২২ লাখ দুই হাজার ৪০৫ টাকা। আর ব্যয় করে ১ কোটি ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫২৫ টাকা।
দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রি, সদস্যের মাসিক চাঁদা, প্রকাশনা বিক্রিসহ বিভিন্ন খাত থেকে থেকে দলটি আয় করে। আর প্রচার কার্যক্রম, অফিস কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন খাতে খরচ হয়।
২০২২ সালে জাতীয় পার্টি আয় দেখিয়েছিল ২ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৮ টাকা; ব্যয় ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার ৫৪২ টাকা। ব্যাংকে স্থিতি ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৬ টাকা।
২০২১ পঞ্জিকা বছরে ব্যাংক জমাসহ ২ কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ১৫৪ টাকা আয় দেখিয়েছিল জাতীয় পার্টি। আর ব্যয় দেখানো হয়েছিল ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ১৩৪ টাকা। বছর শেষে দলটির স্থীতি ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ১৭ হাজার ২০ টাকা।
২০২০ সালে দলটির ব্যয় ছিল ৭৬ লাখ ৪ হাজার ১২০ টাকা। উদ্বৃত্ত ছিল ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৭ টাকা ৫৪ পয়সা।
সাবেক সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে অনেকটা বেকায়দায় রয়েছে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিন মেয়াদে সংসদে প্রধান বিরোধী দল ছিল জাতীয় পার্টি। সেই সময়ের ভূমিকার জন্য ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে এখন দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চাইছে অভ্যুত্থানের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন।
রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে সংলাপ করছে, তাতে ডাক পায়নি জাতীয় পার্টি। প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসলেও জাতীয় পার্টির নেতারা সেখানে আমন্ত্রণ পাচ্ছেন না।
অগাস্টের পর থেকে সেভাবে আর দলীয় কর্মূসচিও করতে পারছে না এরশাদের ভাই জি এম কাদেরর নেতৃত্বে থাকা দলটি। দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে একাধিকবার হামলার মুখেও পড়তে হয়েছে তাদের।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলোকে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিতে হয়। সে নিয়ম মানতে জাতীয় পার্টিও হিসাব দিল।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৫০টি।
প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আর্থিক বিবরণী দেওয়ার বাইরে রয়েছে দলটি।
আইন অনুযায়ী পর পর তিন বছর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।
আরও পড়ুন: