অপসারণও নয়, সংসদ কেবল অনুমোদন করবে: সুরঞ্জিত

বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবার বললেন, সংসদ বিচারপতিদের অপসারণও করবে না, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু তা অনুমোদন করবে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2014, 11:51 AM
Updated : 11 Sept 2014, 06:44 PM

তিনি জানিয়েছেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় প্রস্তাবিত বিলের ‘খোলনলচে’ পাল্টে নতুন অবয়বে তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু একাডেমির এক আলোচনা সভায় বাহাত্তরের সংবিধান প্রণেতা কমিটির সদস্য সুরঞ্জিত বলেন, “বিলটি নিয়ে বিচারপতিদের অভিশংসন হয়ে যাচ্ছে বলে প্রথমে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে তাতে আমি আপনাদের বলেছি- অভিশংসন নয়, অপসারণ। এখন আমরা এটুকু করতে পেরেছি- আজকের পরে এটি অপসারণও নয়। অপসারণ করবে রাষ্ট্রপতি, যিনি নিয়োগ দেন। অপসারণ যে হবে- তদন্ত করার আইনটি তা নির্ধারণ করবে।”

বিচরপতিদের অপসারণে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের এই প্রস্তাব গত রোববার সংসদে তোলা হয়।

ইতোমধ্যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। এই কমিটির প্রতিবেদন কয়েকদিনের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন করার কথা।

ফাইল ছবি

সংসদে উত্থাপিত বিলে বর্তমান সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব করে বলা হয়েছে, “বিচারকদের পদের মেয়াদ-(১) এই অনুচ্ছেদের বিধানবলী সাপেক্ষে কোন বিচারক ৬৭ বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

“(২) প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত বিচারককে অপসারিত করা যাইবে না।”

এই বিল নিয়ে বিএনপি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদভুক্ত গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির এক সভায় ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে আইনজীবীদের ‘সর্বদলীয় কমিটি’ গঠনেরও ঘোষণা দেয়া হয়।

ওই কমিটি ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, যিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা।

বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপি ও কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন ওই কমিটির উদ্যোগের সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত।

স্থায়ী কমিটি মঙ্গল ও বুধবার দুই দফা বিলটি নিয়ে আলোচনা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে কিছু ত্রুটি থাকায় তা সংশোধন করা হয়েছে।

“হ্যাঁ, বিলটির অবয়বে কিছু ত্রুটি ছিল। বিল তৈরি করতে অভিজ্ঞতার অভাবে আইন মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে প্লেস করতে পারেনি।”

সুরঞ্জিতের ভাষায় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিলটি খুবই ‘নিরীহ ও নির্মোহ’ একটি ‘চার লাইনের’ বিল।

“সংসদীয় কমিটিতে বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন এটা একেবারেই সম্পূর্ণ নতুন বিল। যার খোলনলচে বদলে গেছে। এ বিলে কিছু নেই। সব বদলে এখন মাত্র চারটি লাইন। এর মধ্যে বাহাত্তরের তিনটি ও বর্তমান সংবিধানের একটি।”

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ এ বিলকে ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ বলায় তারও সমালোচনা করেন সুরঞ্জিত।

তিনি বলেন, “অভিসন্ধি বা দুরভিসন্ধি কোনো কিছুই নেই। এর জন্যে যোগ্যতা লাগে- ওই যোগ্যতা মওদুদেরই আছে। এ বিলটি দিয়ে বিচারপতিদের বয়স কমিয়ে চাকুরিচ্যুত করা হচ্ছে না, আবার কারো বয়স বাড়িয়ে কারো উপদেষ্টা বানানোর দুরভিসন্ধিও নেই।”

অভিসংশন করার ক্ষমতা কখনোই সংসদের হাতে ছিল না মন্তব্য করে সুরঞ্জিত বলেন, “অভিসংশনের ক্ষমতা শুধু একজনকে সংবিধান দিয়েছে- তিনি হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি।”

“বিচারপতিদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি, তিনিই তাদের অপসারণ করেন। সরাতে হলে তার একটা পদ্ধতি বের করা হয়েছে। শুধু যে বিচারক কাজে অসামর্থ্য বা অসদাচরণ করে- তাদের অপসারণ করা হবে।”

তবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন সুরঞ্জিত।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি শাসনামলে এক বিচারপতির জাল সার্টিফিকেটের অভিযোগ প্রমাণের পর তার পদত্যাগ করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

সুরঞ্জিত বলেন, “নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে। তাকেও বলার সুযোগ দিতে হবে। সত্যি ওই বিচারপতি অসুস্থ বা দুর্নীতি, অসদাচরণ করেছে প্রমাণিত হয়- তখন পরবর্তী ব্যবস্থা।”

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য মনে করেন, বিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে এখন কথা না হলেও পরে আলোচনা হতে পারে।

রাজধানীর ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের সেমিনার হলে হুমায়ুন কবির মিজির সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগরের সহ সভাপতি ফিরোজ উদ্দিন মিয়া, ব্যারিস্টার জাকির হোসেন, আতিকুর রহমান খোকন আলোচনায় অংশ নেন।